শেখ মোঃ দীন ইসলাম ময়মনসিংহ
বহু দিন ধরে ময়মনসিংহের বিভিন্ন জায়গায় একটি চক্র অসৎ উপায়ে দীর্ঘদিন যাবৎ ভূমি সংশ্লিষ্ট জাল দলিল ও নাম খারিজের দলিলাদি সৃজন করে থাকে। এতে ময়মনসিংহ অঞ্চলের বহু মানুষজন হয়রানির শিকার। এরই সুবাদে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জেলা গোয়েন্দা সংস্থা ডিবি পুলিশ একটি অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানে ময়মনসিংহ সদর উপজেলার চর ঈশ্বরদিয়া ইউনিয়নের আবুল মুনছুর এর ছেলে আলমগীর হোসেন (৩১) কে আটক করে। আটককৃত আলমগীর হোসেন উক্ত বিষয় গুলি স্বীকার করে বলে জানা যায়।
উক্ত অভিযানে সৃজনকৃত জাল দলিল ০৮ টি। বিভিন্ন জেলা উপজেলা ও ইউনয়িনরে ভূমি সংশ্লষ্টি অফসিরে ২০ ধরনরে কর্মকর্তাদের ৬২ টি সলি সহ বভিন্নি ধরনরে খোলা রাবার সলি ৩৬ টি, খোলা রাবার সলিরে প্লাষ্টকি হোল্ডার ১৪টি এবং ০৩টি প্যাড। ০২ টাকা মূল্যরে অনুলিপি ষ্ট্যাম্প-১১০ পাতা। ২.৫০ টাকা মূল্যরে অনুলিপি ষ্ট্যাম্প-১৩ পাতা। ০৪ টাকা মূল্যরে অনুলিপি ষ্ট্যাম্প-০১ পাতা। ০৫ টাকা মূল্যরে অনুলিপি ষ্ট্যাম্প-০৮ পাতা। ০৭ টাকা মূল্যরে অনুলিপি ষ্ট্যাম্প-০১ পাতা। ০৮ টাকা মূল্যরে অনুলিপি ষ্ট্যাম্প-০১ পাতা। ০৯ টাকা মূল্যরে অনুলিপি ষ্ট্যাম্প-০১ পাতা। ১০ টাকা মূল্যরে অনুলিপি ষ্ট্যাম্প-৩৬ পাতা। ২০ টাকা মূল্যরে অনুলিপি ষ্ট্যাম্প-০৩ পাতা। ৪০ টাকা মূল্যরে অনুলিপি ষ্ট্যাম্প-০১ পাতা। ৫০ টাকা মূল্যরে অনুলিপি ষ্ট্যাম্প-০১ পাতা। ১০০ টাকা মূল্যরে অনুলিপি ষ্ট্যাম্প-০২ পাতা।জাল দললি সৃজনরে কাজে ব্যবহৃত খসড়া কাগজ ১৫০ পাতা উদ্ধার করে।
জেলা পুলিশ সুপার এর কার্যালয়ে প্রেস ব্রিফিংয়ে সহকারী পুলিশ সুপার জানান, (৯ ফেব্রুয়ারী) রবিবার জেলা গোয়েন্দা শাখা, ময়মনসিংহ গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানতে পারেন যে, ময়মনসিংহ জেলার কোতোয়ালী থানাধীন চর ইশ্বরদিয়া সাকিনে আলমগীর এর বাড়ীতে দীর্ঘদিন যাবৎ ভূমি সংশ্লিষ্ট জাল দলিল ও নাম খারিজের দলিলাদি সৃজন করে থাকে। উক্ত সংবাদের ভিত্তিতে জেলা গোয়েন্দা শাখা, ময়মনসিংহের একটি আভিযানিক দল ঘটনাস্থল হতে উক্ত চক্রের মূলহোতা আলমগীর হোসেন (৩১)-কে হাতেনাতে আটক করে।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ধৃত আসামী ও চক্রের অন্যান্য সদস্যরা নতুন দলিল সৃজনসহ দলিলের ভিতরে নতুন করে খতিয়ান, দাগ, নাম পরিবর্তন করে বিবাদ রয়েছে এসব জমিতে যে জমির মালিক নন তাকে জমির মালিক বানিয়ে দিত মর্মে স্বীকার করে। এছাড়াও, নামজারির ক্ষেত্রে নতুন নাম সংযুক্ত করাসহ যে জমি প্রাপ্য নয় তাদের নাম সংযুক্ত করে তাদের সেই জমিতে অংশীদার বানিয়ে দিত এবং তারা জমির প্রকৃত মালিকদের নাম বিলুপ্ত করাসহ জমির পরিমান কমিয়ে অন্যদের নতুন করে নামজারি করে তাদের জমির অংশীদারী করে দিত। জেলা গোয়েন্দা শাখা, ময়মনসিংহের অভিযানকালে চক্রটির আরো অন্ততঃ ০৪ জন সক্রিয় সদস্যের সম্পর্কে তথ্য পাওয়া গেছে। এদেরকে গ্রেফতারের প্রচেষ্টা ও গ্রেফতারকৃত ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।