সোমবার, ১৭ই জুন, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ, সকাল ৮:১৫ |
শিরোনামঃ
পবিত্র ঈদুল আযহার শুভেচ্ছা জানিয়েছেন নান্দাইল উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান শফিউল ইসলাম রাসেল হতদরিদ্রের মাঝে ঈদ সামগ্রী দিলেন এমপি সিদ্দিকুর রহমান পাটোয়ারী  রাঙ্গাবালী উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি আরিফ, সম্পাদক জামিল  নরসিংদীর শিবপুরে প্রধানমন্ত্রীর ঈদ উপহার সামগ্রী বিতরণ  সীতাকুণ্ডের কুমিরায় গঙ্গাপূজায় গিয়ে সাগরে ডুবে দুই শিশুর মৃত্যু ঈদের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান- শ্যামল  মাদক একটি অভিশপ্ত জীবন আলহাজ্ব সাখাওয়াৎ হোসেন সুমন  পবিত্র ঈদুল আজহার শুভেচ্ছা জানিয়েছেন আলহাজ্ব শাহ মঞ্জুর মোরশেদ চৌধুরী  যুবলীগ কর্মী আজাদ হত্যাকান্ড; আসামীরা ১১ মাস বাড়ি ছাড়া! কালিয়ায় দুই শতাধিক পরিবার বাড়িতে ঈদ করতে পারছে না  নোয়াখালীতে সৌদিআরব এর সাথে মিল রেখে কিছু সংখ্যক জাগায় ঈদুল আজহা অনুষ্ঠিত হয়। 
  • HOME
  • অন্যান্য >> ধর্ম
  • কোরবানীর প্রকৃত হাকিকত বনাম আমাদের নৈতিক বাস্তবতায় ইসলামের ধর্মীয় বর্তমান শিক্ষা আজ ভূ-লন্ঠিত
  • কোরবানীর প্রকৃত হাকিকত বনাম আমাদের নৈতিক বাস্তবতায় ইসলামের ধর্মীয় বর্তমান শিক্ষা আজ ভূ-লন্ঠিত

    দৈনিক দেশ প্রতিদিন
    সংবাদটি শেয়ার করুন

    জাহারুল ইসলাম জীবন

    স্টাফ রিপোর্টার, মেহেরপুর থেকে

    প্রথম প্রর্যায়ে বলতেই হয় যে, সারা বিশ্বের মুসলিম উম্মার ধর্মীয় প্রধান দুইটি আনন্দ ও খুশির উৎসব প্রচলিত রহিয়াছে : একটি হচ্ছে ঈদুল ফিতর আরেকটি হচ্ছে ঈদুল আযহা।

    বিস্তারিত ব্যাখ্যায় প্রথম ধাপে ঈদুল ফিতরের সম্বন্ধে কিছুটা বলার একান্তই প্রয়োজন বোধে বলতে হয় যে,
    আমরা মুসলমান সম্প্রদায় পবিত্র রমজানুল মোবারক মাসে ৩০ দিন কঠোর সিয়াম সাধনার মাধ্যমে নিজের আত্মার আত্মশুদ্ধি জন্য জ্বীন জাতি এবং ইনসান তথা মানুষের জীবনের সমস্ত পাপ ও পঙ্কিলতা হইতে নিজেকে পরিপূর্ণ পাপমুক্ত এবং অন্তরে খোদা ভীতি অর্জনের নিমিত্বে, নিজেকে ক্ষুধার অগ্নিতে বা আগুনে জ্বালিয়ে, শরীরের পাপ ও পঙ্কিলতার দ্বার যুক্ত যে সকল ইন্দ্রিয় সমূহ সচল থাকে, সেই সকল ইন্দ্রিয় সমূহ ক্ষুধার অগ্নিতে শারীরিক দুর্বলতার মাধ্যমে নিজের ভিতরে আল্লাহ্ বিরোধী অদৃশ্য বিরুদ্ধচারণ নাফস্ এবং রুহু কে দুর্বল করনের দ্বারা নিজের ঈমান ও হৃদয়কে আল্লাহ্ মুখী করিয়া, প্রকৃত অর্থে সিয়াম সাধনার মাধ্যমে নিজের আত্মশুদ্ধি নিজের ভিতরে জাগ্রত করে খোদাভীতি অর্জন পূর্বক অদৃশ্য ঈমান ও হৃদকে জাগ্রত করিবার অভিপ্রায়ে তাত্ত্বিকভাবে বলতে গেলে হাকিকতের ভাষায় বলতে হয় যে,সকলের ভিতর নিজো নিজো ছূঁরুতে বা নিজ রুপীয় অদৃশ্য আত্মা এবং হামজাদ….কে পরিপূর্ণ ভাবে মসুলমান বানিয়ে নেওয়ার অতীব জরুরী।

     

    বিশেষ ভাবে বলতে গেলে বলতেই হয় যে,নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি আস্ সালাম এর বর্ণিত হাদিস অনুযায়ী নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি আস্ সালাম বলেছিলেন যে, আমার কাছে যে শয়তানটি ছিল আমি তাহাকে পরিপূর্ণভাবে মুসলমান বানাইয়া ফেলেছি। বাস্তবিক দিক দিয়ে বিশ্লেষণ করিয়া দেখিলে দেখা যায় যে, নবী-রাসূলগণ এবং সাহাবায়ে কেরাম সহ আল্লাহর মনোনীত অলি আল্লাহ্ সহ বড় বড় সাধক গন বছরের প্রায়ই সময় বিশেষ বিশেষ দিনসহ অধিকাংশ সময় নিজেকে রোজা রাখার মাধ্যমে নিজো নিজো নফস্ কে দমন করে রাখার জন্য রোজা রাখিতেন। আমরা যাহারা দুর্বল ঈমানের অধিকারী তাহারা নিজেকে নিজের সমস্ত পাপ হইতে মুক্ত করণের জন্য এবং আল্লাহ্ প্রেমে নিজেকে সমর্পিত সহকারে দৃঢ় ঈমানী শক্তির জজবা ও দৃঢ় হৃদয়িক সংকল্প সহকারে তাকওয়া অর্জন করত: নিজেকে মুমিন ও মুত্তাকীত্ব হাসিল পূর্বক খাঁটি মুসলমান হওয়ার জন্য দীর্ঘ একমাস রমজানের পবিত্রতা অর্জন সহকারে সিয়াম সাধনার (রোজা পালনের) মধ্য দিয়ে, আল্লাহ তায়ালার সন্তুষ্টি অর্জনের মাধ্যমে কিছুটা হলেও এই মাহে রমজানুল মোবারক মাসের পর পবিত্র ঈদুল ফিতরের সমস্ত আনন্দ এবং খুশি একজন মুমিন ও মুসলমান বান্দা হিসেবে পরিপূর্ণভাবে উপভোগ করে থাকি।

    দ্বিতীয় ধাপে এবার আমরা আসি কোরবানির প্রকৃত ধর্মীয় হাকিকত বনাম আমাদের নৈতিক বাস্তবতায় আধুনিক কোরবানির প্রকৃত চিত্র :সমগ্র মুসলিম বিশ্বের দ্বিতীয় ধর্মীয় আনন্দ ও খুশির উৎসব ঈদুল আযহা অর্থাৎ কোরবানির ঈদ।

    কোরবানি বলতে আমরা যাহা বুঝি, তাহা হলো এই পৃথিবীতে নিজস্ব হৃদয়িক ঈমানে ধারণকৃত ষড়রিপুর সংযোগ ক্ষেত্র বিশিষ্ট পৃথিবী কামিয়াবী ভাবের আত্মপ্রকাশ তথা প্রেম ও ভালোবাসা কেবলমাত্র আল্লাহ তায়ালার সন্তুষ্টি অর্জন পূর্বক আল্লাহ তায়ালার উদ্দেশ্যে উক্ত পৃথিবী কামিয়াবী প্রেম বা ভালোবাসা নামক প্রিয় বস্তু একান্তই আল্লাহ্ তালার প্রতি সন্তুষ্টি অর্জনের নিমিত্তে আত্মত্যাগে বিসর্জন দেওয়া বা নিঃশেষ করে দেওয়া বা হত্যা করা।

    প্রচলিত কোরআন ও হাদিসের উল্লেখিত বিবরণ অনুযায়ী সমগ্র মুসলিম উম্মার মুসলিম জাতির পিতা হযরত ইব্রাহিম আলাইহি আস্ সালাম, বারবার স্বপ্নের মাধ্যমে জানতে পারলেন যে, আল্লাহপাক পরওয়ার দিগারের তিনার সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য হযরত ইব্রাহিম আলাইহি আস্ সালাম কে, তিনার সবচেয়ে প্রিয় ও জানের বস্তু কুরবানী করিতে হবে আল্লাহর ওয়াস্তে আল্লাহর রাস্তায়!
    হযরত ইব্রাহিম আলাইহি আস্ সালাম এই স্বপ্নের হাকিকত, প্রথম প্রথম বুঝতে পারছিলেন না। পরবর্তীতে তিনি গভীরভাবে চিন্তা গ্রস্ত হয়ে পরিলেন এবং তিনি অনেক চিন্তা ও ভাবনা করিয়া দেখিলেন যে, তিনার সবচেয়ে কাছের ও প্রিয় জানের বস্তু হচ্ছে তিনার “সন্তান” ইসমাইল আলাইহি আস্ সালাম।

    তাই তিনি সিদ্ধান্ত নিলেন যে, আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য তিনি তিনার সবচেয়ে প্রিয় ও জানের বস্তু নিজের সন্তান ইসমাইল আলাইহি আস্ সালাম কে আল্লাহর ওয়াস্তে আল্লাহর রাস্তায় আল্লাহ সন্তুষ্টির জন্য কোরবানি দিবেন।

    হযরত ইব্রাহিম আলাইহি আস্ সালাম তিনার এই স্বপ্নের কথা তিনার সন্তান ইসমাইল (আঃ) কে জানাইলেন। ইসমাইল (আঃ) তিনার পিতা হযরত ইব্রাহিম (আঃ) এর বারবার আল্লাহ প্রদত্ত স্বপ্নের কথা শোনার পর তিনি তিনার পিতাকে বলিলেন যে, আপনি আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য আমাকে কোরবানি করেন! আমি এই কোরবানির জন্য প্রস্তুত রহিয়াছি। আল্লাহর নির্দেশ পালনের জন্য হযরত ইব্রাহিম ( আঃ) তিনার পুত্র ইসমাইল ( আঃ) কে কোরবানি দেওয়ার জন্য দূরের পাহাড়ে একাকী নিয়ে গেলেন এবং ইসমাইল (আঃ) এর দিকে তাকিয়ে বারবার মহব্বতের মায়ায় পড়ে যাচ্ছেন যাহার কারণে ইসমাইল (আঃ) কে কোরবানি করিতে পারিতেছেন না ! এমতাবস্থায় ইসমাইল (আঃ) তিনার পিতা হযরত ইব্রাহিম (আঃ) কে বলিলেন হে আমার পিতা আপনি আমার মুখের দিকে তাকিয়ে বারবার চেষ্টা করার পরেও কোরবানি দিতে পারতেছেন না, তাই আপনি আপনার চক্ষু কাপড় দ্বারা বেঁধে নিয়ে আমাকে কোরবানি করুন।

    হযরত ইব্রাহিম (আঃ) হযরত ইসমাইল (আঃ) এর কথামতো তিনার নিজের চক্ষু কাপড় দ্বারা বেঁধে নিলেন এবং ইসমাইল আঃ কে কোরবানি দেওয়ার জন্য শুয়াইয়া দিলেন এবং ধারালো ছুরি দ্বারা ইসমাইল (আঃ) এর গলায় আল্লাহর হুকুমে ও আল্লাহর নামে কোরবানি দেওয়ার জন্য ছুরি চালাইলেন কিন্তু আল্লাহর করুনার দয়ার মহব্বতে ও কুদরতি মহিমায়, ইসমাইল (আঃ) জবাহ্ না হয়ে ইসমাইল (আঃ) এর জায়গায় একটি বেহেস্তি দুম্বা সাদৃশ্য পশু জবাহ্ হয়ে পড়ে রয়েছেন এবং ইসমাইল (আঃ) হযরত ইব্রাহিম (আঃ) এর পাশে দন্ডায়মান অবস্থায় দাঁড়িয়ে রয়েছেন ! এখানে আল্লাহ পাকের হুকুম ও প্রেমের পরীক্ষায় ইব্রাহিম (আঃ) পাশ করিলেন এবং আল্লাহকে সন্তুষ্ট করিবার অভিপ্রায়ে প্রকৃত অর্থে ইসমাইল (আঃ) কে কোরবানি দিয়েছিলেন কিন্তু আল্লাহপাক পরম করণময় দয়ালু দাতা তিনি ইসমাইল (আঃ) এর পরিবর্তে একটি বেহস্তি পশু দুম্বা কোরবানি করিয়া দিলেন তিনার নিজ কুদরতি ক্ষমতায়! এটাই কোরআন হাদিসের বর্ণনা অনুযায়ী কোরবানির আদর্শিক আল্লাহর মহিমান্বিত এবং বাস্তবিক প্রেমের শিক্ষা, যাহা পরবর্তীতে ইসলাম ধর্মের অনুসারী মমিন মুসলমান বান্দাগণের উপরে সাধ্য ও সামর্থ্য অনুযায়ী ফরজ করা হয়েছে।

    প্রসঙ্গত ভাবে ধর্মীয় তাত্ত্বিকতায় সৃষ্টি রহস্যতত্ত্বে জানা যায় যে,আল্লাহ তায়ালার মনোনীত নবী-রাসূলগণ ও আল্লাহ তায়ালার প্রেরিত ওলী-আল্লাহগন, এই নশ্বর জগতে অর্থাৎ এই পৃথিবীতে তিনারা সকল পাপ ও পাপ সংগঠিত করণ ষড়রিপু ও লোভ লালসা হইতে চিরো মুক্ত। তাহার পরেও এই পৃথিবীর ধরাধামে এসে নবী রাসূলগণ এবং অলি আল্লাহগণ প্রেরিত হওয়ার পর হইতে নিজ নিজ সংসারের মায়া ও মহব্বতে কিছুটা হলেও আপন সন্তান-সন্ততির প্রতি প্রেম-ভালোবাসা ও মায়া মহাব্বতে জড়িয়ে পড়ে বা পতিত হয়। যাহার কারণে আল্লাহ তাআলা তিনার প্রেরিত নবী ও রাসুলগণ সহ তিনার মহব্বতের অলি-আল্লাহ গন কে এই পৃথিবীতে ন্যূনতম মাত্রায়ও যেন তিনার অর্থাৎ আল্লাহ ব্যথিত এই পৃথিবী কামিয়াবি কোন প্রেম ভালবাসা বা নিজস্ব কোন মহাব্বতে পতিত না হয়, তাহার কারণে আল্লাহ তালা একান্ত ভাবে কোন ক্রমেই তিনার সকল বন্ধুগণকে এই পৃথিবী কামিয়াবী সকল মায়াবী মহব্বত ও নিজস্ব প্রেম ভালবাসা তথা নিজের সবচেয়ে প্রিয় বস্তুু আল্লাহ তায়ালা ব্যথিত কোন কিছু বা কেহই না হয়, কেবলই মাত্র সবকিছুই যেন আল্লাহ্ তালার উদ্দেশ্যে যেন নিবেদিত থাকে।

     

    এই উদ্দেশ্যেই সৃষ্ট এই পৃথিবীতে তিনার প্রেরিত নবী রাসূলগণের উপর বা অনুসারীগণ ভবিষ্যতে এই পৃথিবীতে ধর্মীয় আবেশে ইসলামী মতাদর্শনে শিক্ষানীয় মতাদর্শন বাস্তবে প্রতিষ্ঠিত ও চলমান থাকে তাহার উদ্দেশ্যেই বাস্তবিক ঘটনা বহুল কিছু নমুনা আল্লাহপাক এই পৃথিবীতে তিনার প্রিয় বান্দাগনের জন্য আদর্শ অনুপ্রেরণা ও শিক্ষা হিসাবে চির নিদর্শন রাখিয়াছেন যাহা পৃথিবীর শেষ অব্দি চলমান থাকিবে।

    ধর্মীয় তাত্ত্বিকতায় প্রকৃত কোরবানির হাকিকত অনুযায়ী বিশ্লেষণ করিলে বাস্তবিক কিছু দিক বিশ্লেষণ করতেই হয়।
    আল্লাহ সুবহানাহু তায়ালার সৃষ্টিতত্ত্বের প্রথম ধাপ বিশ্লেষণ করিলে দেখা যায় যে>
    আল্লাহ তাআলা তিনার কুদরতি সৃষ্টির রহস্য তত্ত্বে জ্বীন এবং ইনসান অর্থাৎ মানুষ সৃষ্টি করিয়াছেন। জ্বীন জাতিকে আল্লাহ তালা কেবলমাত্র আগুন দিয়েই তৈরি করিয়াছেন এবং এই বিশ্ব ব্রাম্মাণ্ডে তাহাদের লোক চোক্ষের আড়ালে অদৃশ্য করিয়া রাখিয়া আছেন। তাহাদের উপরেও আল্লাহর প্রেরিত নবী রাসূলগণ এবং কোরআন ও হাদিস সহ ইসলামের যাবতীয় আইন কানুন ও বিধি নিষেধ এবং ধর্মীয় সমস্ত ইবাদত বন্দেগী ফরজ করা হয়েছে যেমনটি ফরজ করা হয়েছে ইনসান অর্থাৎ মাটির তৈরি আদম সন্তান মানুষের উপরেও।

    জ্বীন এবং আদম সন্তান অর্থাৎ মানুষ তৈরীর হাকিকত ও বহিরাবরণ সহ আল্লাহ তালার গোপন এবং প্রকাশ্য সৃষ্টিতত্ত্বের তাত্ত্বিকতা বিশ্লেষণ করলে দেখা যায় যে, আল্লাহ তাআলা জ্বীন ও আদম অর্থাৎ মানুষ সৃষ্টিতে তিনি তিনার নিজের নিজেস্ব ছুঁরুতের মুখমণ্ডল সম্বলিত চেহারায় নিজের অবয়বে দান বা সৃষ্টি করিয়াছেন সৃষ্টিতত্ত্বের অদৃশ্য প্রথম ধাপে। যাহা আল্লাহুর নিজস্ব রূপ বা চেহারায়, যাহাকে বলা হয় জাতে “হাকিকি” বা নিজস্ব রূপীয় জাতি সত্তা অর্থাৎ >আল্লাহ তালার নিজস্ব রুপীয় অদৃশ্য আত্মা ! এই অদৃশ্য আল্লাহর নিজস্ব আমানত রুপী সেফাতি গুনাগুন জীবাত্মার ভিতরে আল্লাহ তালা সেফাতি এই আটটি গুন অদৃশ্যভাবে জীবন দশায় জ্বীন ও ইনসান তথা মানুষের ভিতরে দৃশ্যমান অবস্থায় থাকে, তাহা হলঃ- >স্মৃতিশক্তি>ইচ্ছা শক্তি>দেখন/চোখের দেখা শক্তি>মুখ দ্বারা কথন/কথা বলার শক্তি>জীব্বাহ দ্বারা লেহন/ স্বাধ গ্রহন শক্তি >কানের দ্বারা শ্রবণশক্তি/কানে শোনা>শরীরের দ্বার অনুভূতি শক্তি / শারীরিক ব্যথা বা আঘাতপ্রাপ্ত কোন কিছুর অনুভূতি প্রকাশ পাওয়া > নাকের মাধ্যমে শ্বাস প্রশ্বাস বা নিঃশ্বাস আদান-প্রদান শক্তি। যাহা জীবকুলের ভিতর কেবলমাত্র জ্বীন এবং ইনসান তথা মানুষের ভিতর অদৃশ্যভাবে বিরাজমান থাকে। যাহা মৃত্যুর সঙ্গে সঙ্গে শেষ হয়ে যায় এবং লাশে পরিণত হয়।

    এই অদৃশ্য আত্মাকে জাতে হাকিকি বলে, পৃথিবীতে মানুষ ও জ্বীন জাতির মধ্যে আগমনের পর বিরাজমান থাকে, ইহাকে জীবাত্মা বলা হয়।

    এই জীব আত্মা সম্বলিত অদৃশ্য আত্মা কেবলমাত্র জ্বীন এবং ইনসান তথা মানুষের মাঝেই বিরাজমান। বাঁকি সকল জীব কুল তথা পশু পাখির খেছর ভূসর সকলের ভিতর কেবলমাত্র জড়ো আত্মারূপে আল্লাহতালা প্রদান করিয়াছেন। যাহা শুধুমাত্র এই বিশ্বব্রহ্মাণ্ড তথা পৃথিবীতে জীবিত অবস্থায় জীবনধারণ ও মৃত্যু পর্যন্তই সীমাবদ্ধ থাকে এবং মৃত্যুর পর তাহার আর কোন অস্তিত্ব থাকেনা।যাহার কারণে পশু পাখির মৃত্যুর পর কোন শাস্তি প্রদান বা হিসাব-নিকাশ নেওয়া হইবে না।

    আল্লাহ সুবহানুতায়ালার সৃষ্টিতত্ত্বের দ্বিতীয় ধাপটি বিশ্লেষণ করে আমরা যাহা দেখি তাহা হচ্ছে >
    *কাল্ব, রুহু, ছের,খফি,আকফা,আব্, আতশ,খাক্,বাদ, নাফস্ দশটি গুনাগুন বা কর্ম যাহা অদৃশ্য তাহা কেবল জ্বীন এবং ইনসান তথা মানুষের ভিতর বিরাজমান। এই দশটি আল্লাহ তালার অদৃশ্য গুনাগুনের ভিতর ছয়টি গুনাগুন আল্লাহ তায়ালার নিজস্ব এবং বাঁকি চারটি গুনাগুন এই পৃথিবী থেকে আল্লাহপাক তিনার ফেরেশতাগন দ্বারা নিজস্ব সৃষ্ট জগৎ হইতে সংগ্রহ করিয়াছেন এবং যাহা জ্বীন এবং ইনসান তথা মানুষের ভিতর প্রবেশ করাইয়া অদৃশ্য ভাবে দেহ অবয়ব তৈরি করিয়াছেন।

    এই গুনাগুনকে জড়ো আত্মা বলা হয়। যাহার কারণে এই চারটি গুনাগুন সম্বলিত >আব> আতস> খাক >বাদ অর্থাৎ আগুন-মাটি-পানি ও বাতাস ইহায় মানুষের জড় জগৎতের লতিফা।যাহা জ্বীন ও ইনসান তথা মানুষ ও জীবকুলের সকল পশু পাখির মৃত্যুর সঙ্গেই এই পৃথিবী থেকে বিলীন বা শেষ হইয়া যায়। কবরের মাটি,হিউমাস,ব্যাকটেরিয়া ও পোকামাকড়ের খাবার সহ পঁচন প্রক্রিয়া দ্বারা এবং শ্মশানের আগুনে মৃত্যু মানুষের দেহকে পোড়ানো দ্বারা শেষ হয়ে যায়।

    তাই আমি জাহারুল ইসলাম জীবন> কবি,সাহিত্যিক,লেখক ও গবেষক হিসেবে আমার ভাষায় কবিতার কাব্যিক ভাষার মাধ্যমে কোরবানির প্রকৃত হকিকত নিম্নে তুলে ধরার নূন্যতম চেষ্টা করেছি মাত্র➤
    **মোনের পশুকে কোরবানি দাও ও-মোন
    বনের পশুকে-নই,
    এক-এক করে কোরবানি-দাও তুমি
    প্রতি বছর এক-একটি মনের-হিংস্রতা কে হত্যার মাধ্য দিয়ে।
    কাম,ক্রোধ, লোভ-লালসা,হিংসা, নিন্দা, কামনা
    ষড় রিপুকে দাও কোরবানি,
    এক একটি পশুর উপর নিজের নামে
    মনের অঙ্কনে ভর করে।
    পশুর সাদৃশ্য করণে মনের অন্তঃদহনের- অন্তঃকরনে,
    সপ্তম-তম শেষ কোরবানি দাও তুমি,
    তোমার নিজো নামে নিজের ষড় রিপুর আমিত্বের অহমিকাকে হত্যা করনের মাধ্যমে,
    নিজো নাফসিনিয়াতের রুহানিয়াত আল্লাহর তরে, বেঁচে থেকেউ নিজেকে মৃত্যু সাজে সজ্জিত করে।
    মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ পূর্বক আল্লাহর ওয়াস্তে আল্লাহকে রাজি খুশির তরে।
    সমস্ত কোরবানি দাও আল্লাহ্ তালার নামে আল্লাহ্-র ওয়াস্তে।
    টাকার গরমে লোক দেখিয়ে
    দিওনা কোরবানি তুমি,
    হইবে না তোমার কোরবানি দেখো হাকিকতে।
    যে বছর যে রিপুকে দিবে তুমি কোরবানি,
    সেই দিন থেকে সেই রিপুর কাজ
    করিতে পারবে না তুমি-কোন অন্যায় ভাবে।
    ষড়-রিপু তোমার মোনের খোরাক
    পৃথিবীতে চাকচিক্যময় জীবন চলার বাহন,
    জীবনের তরে মুক্ত করে
    হত্যা করতে পারবে কি তারে তুমি ?
    ভেবে চিন্তে সিদ্ধান্ত নাও কোরবানি দেওয়ার আগে।
    পাপ-পূণ্যের টাকা দিয়ে
    হাট থেকে কয়েক দিন আগে, পশু কিনিলে তুমি নাদুশ-নুদুশ লোক দেখানোর তরে।
    লোক দেখানোর বড়লোকি ভাবের অহংকারের বসে
    দিওনা কোরবানি তুমি আল্লাহর আদেশ কে অ-মান্য করে,
    মনের পশু কোরবানি দেওয়া কিন্তু তোমার এতো সহজ নয়
    জিন্দা থেকেই মৃত্যু স্বার্ধ কোরবানির মাধ্যমেই,
    এই পৃথিবীতে নিজেকে পেতে হয়ে।

    কবিতার মাধ্যমে ক্ষুদ্র পরিসরে যাহা বুঝাইবার চেষ্টা করিয়াছি তাহা কিছুটা হলেও আপনাদের কাছে সহজ ভাবে অবমুক্ত করে বলতে চাই।
    কাল>রুহু>ছির>খফি >আকফা >নাফস – এই প্রধান ছয় লতিফা অর্থাৎ ষড়রিপু মানুষ এবং জ্বীনের ভিতরে অদৃশ্য ভাবে বিদ্যমান থাকে,এই পৃথিবীতে জ্বীন এবং ইনসান সৃষ্টি হওয়ার আগে তাহাদের দেহ অবয়বের ভেতর প্রবেশ করার পূর্ব মুহূর্ত পর্যন্ত এহারা সৃষ্টিতে আল্লাহ তালার কাছে রক্ষিত অবস্থায় আমানতের প্রতিশ্রুতিতে দায়বদ্ধতাই পাপমুক্ত অবস্থায় অবস্থান করে এবং আল্লাহ তাআলার আদেশ-নিষেধ,প্রেম মহব্বত, ভালোবাসা ও ইবাদত ব্যথিত এ-ই ষড়রিপু কিছুই করেন না বা বোঝেনা এবং করিবার কোন মন মানসিকতাও তাহাদের থাকে না। কিন্তু অতীব আশ্চর্যের বিষয় এই পৃথিবীতে জ্বিন এবং ইনসান এর সৃষ্টি বা জন্ম লাভের সময় জ্বীন এবং ইনসানের দেহ অবয়বের ভিতর অদৃশ্যভাবে এই ষড়রিপুকে আল্লাহ তালা সিরিয়াল অনুযায়ী পর্যায় ক্রমে প্রবেশ করিয়া নশ্বর জগতে আল্লাহ তালা যখন জ্বিন এবং ইনসান কে সৃষ্টি জগতে ভূমিষ্ঠ বা জন্মগত সূত্রে প্রেরণ করেন তখন এই জ্বিন এবং ইনসান শিশু অবস্থায় বিচরণ করে তখন পর্যন্তও তাহারা নিষ্পাপ ও যাবতীয় অন্যায় হইতে কলস মুক্ত থাকে। কিন্তু অতীব আশ্চর্যের বিষয় সৃষ্টি জগতে সৃষ্টি হওয়ার পর হইতে পৃথিবী কামিয়াবি জ্ঞান ও বুদ্ধি এবং নিজস্ব স্বার্থপরতা সহ নিজস্ব নাফসের আম্মারা ক্রমান্বয়ে নিজের ভেতর পরিস্ফুটন হওয়ার বয়সী সময় পার হইবার পর এই জ্বীন এবং ইনসান এই পৃথিবীর নিজস্ব পৃথিবী-কামিয়াবী মায়ার প্রেমিও নাফসের আম্মারার ভালোবাসায় পতিত বা প্রেমে পড়ে যাই।

    যাহার উদাহরণ স্বরূপ বলা যায়, এই পৃথিবীতে নিজেশ্ব স্বার্থের তরে নিজের সন্তান, শন্ততি, ভূ-সম্পত্তি, অর্থ / টাকা পয়সা, নিজের বাবা, মা, ভাই, বোন, স্ত্রী, পুত্র সহ পৃথিবী কামিয়াবী যাবতীয় দৃশ্য ও অদৃশ্য বিভিন্ন কৃতকর্ম। যাহা বিশ্লেষণাত্মক ভাবে বলিলে যাহা প্রতিয়মান হয় যে,নিজের মধ্যে অদৃশ্য ভাবে বিরাজমান পশু রুপি> কাম-যাবতীয় যৌন চাহিদা > ক্রোধ-রাগ > লোভ / কোন কিছু হাসিল করিবার অতিরিক্ত ইচ্ছা> লালসা-কোন কিছু প্রয়োজনের অতিরিক্ত নিজের জন্য হাসিল করিবার অতিরিক্ত লালায়িত ইচ্ছা >হিংসা-অন্যায় ভাবে অপরের প্রতি মাত্রারিক্ত পরো হিংসা > নিন্দা-অপরের প্রতি অন্যায় বা মিথ্যা অপবাদ পরনিন্দা করা >কামনা-প্রয়োজনের অতিরিক্ত কোন কিছু এই পৃথিবীতে গচ্ছিত করনের মাত্রাতিক্ত কামনা বা আশা করা >বাসনা – মনের ভিতর চাহিদার বিপরীত অতিরিক্ত কোন কিছু অর্জনের জন্য যে বাসনা > লিপসা-নিজের মুখ বা জীব্বাহ দ্বারা অপর মানুষের প্রতি গীবত ও মিথ্যাচার করা ও হারাম খাদ্য গ্রহণ > অহংকার-এই নশ্বর পৃথিবীতে নিজের ভূ সম্পত্তি ও অর্থের উচ্চাবৃত আকাঙ্ক্ষা হইতে অসহায় গরিব মিসকিন অসাধারণ মানুষের কাছে অহংকার বা দাম্ভিকতা ভরে চলা ।

    ★আসুন এবার আমরা জানি কোরবানির মূল হাকিকত বা উদ্দেশ্য আল্লাহতালা কেন আমাদের উপর সামর্থক অনুযায়ী ফরজ করিয়াছেন তাহার প্রকৃত উদ্দেশ্য লক্ষ্য কি এবং প্রকৃত কোরবানি বলতে আমরা কি বুঝি? এই কোরবানি কেন এক এক জন ব্যক্তির উপর সাতটি করিয়া ফরজ করা হইয়াছে।

    প্রত্যেক মুমিন ও মুসলমান বান্দার উপর কেন সাতটি করিয়া কোরবানি ফরজ করা হইল তাহা আমাদের অতীব জরুরি বা হাকিকি ভাবে অবশ্যই জানা দরকার?

    প্রতিটা কোরবানি করতে হইবে শুধুমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্ট অর্জনের জন্য আল্লাহর ওয়াস্তে আল্লাহর নামে । এই নশ্বর পৃথিবীতে জ্বীন এবং ইনসান তথা মানুষ জীবন দশাই যতদিন এই পৃথিবীতে জীবিত অবস্থায় বেঁচে থাকবে, এই বেঁচে থাকার জন্য সমস্ত নিজস্ব নাফসীও আম্মারার বশীভূত যে ছয়টি প্রধান ষড়রিপুর প্রভাবের ক্রোপানলের মধ্যে পতিত হইয়া জ্বীন ও ইনসান তথা মানুষ পৃথিবী কামিয়াবী পাপ পঙ্কিলতায় প্রতিত হইয়া আল্লাহর প্রতি বিরুপ ও বিরুদ্ধচারণ হইয়া থাকে এবং আল্লাহর প্রতি যে প্রেম ও ভালোবাসা থাকিবার কথা তাহা ভুলিয়া যায় এবং আল্লাহর প্রতি বিরূপ আচরণে লিপ্ত হইয়া আল্লাহ কে ভুলে যাই। অথচ আল্লাহপাক তিনি এই জ্বীন ও ইনসান তথা মানুষ সৃষ্টি করিয়াছেন শুধুমাত্র তিনার সন্তুষ্টি অর্জন পূর্বক ইবাদত করিবার জন্য এবং তিনার প্রতি সমস্ত প্রেম ও ভালবাসা অর্থাৎ এই পৃথিবীতে নিজের সবচেয়ে প্রিয় বস্তু নিজস্ব জীবন আল্লাহর রাহে কুরবান করিতে, ইহা শুধুমাত্রই এই পৃথিবীতে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন ব্যথিত অন্য কোন কিছুর জন্য নহে।

    এই জন্যই প্রতিটা জ্বীন ও ইনসান তথা মানুষ এ-র উপর সাতটি কোরবানি সামর্থ্য অনুযায়ী ফরজ করা হইয়াছে, এর মধ্যে ছয়টি কোরবানি অর্থাৎ প্রতিবছর এক একটি কোরবানি এক একটি ষড়রিপুর (হিংস্র পশু রুপি রিপু) উপর ভর করিয়া নিজের জান ও মালের উপর সমস্ত মায়া প্রেম ও ভালোবাসা বিসর্জন বা হত্যা করণের মধ্য দিয়া এক একটি পশুর উপর ভর করিয়া আল্লাহর ওয়াস্তে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন পূর্বক কোরবানি করিতে হয়। যে বছর যে রিপুর কোরবানি কোন না কোন পশুর ওপর ভর করিয়া করিতে হয়, সেই দিন থেকে আর কোনদিন এই পৃথিবীতে কোরবানি প্রদানকারী জ্বীন ও ইনসান তথা মানুষ ঐ রিপুর ক্রোপানলের কু-খায়েশ হইতে চিরো মুক্ত প্রাপ্ত হইয়া ঐ রিপুর ক্রোপানাল হইতে চির মুক্ত হইতে হয়। আর কোনদিন ওই রিপুর কু-প্রভাব বা হিংসাত্মক পশুত্ব ভাব যেন কোরবানি দাতার উপর কোনক্রমেই এই পৃথিবীর কামিয়াবি নাফসের আম্মারার ভাবের দ্বারা প্রভাবিত বা পরিচালিত না হয়ে। এইভাবে ছয় বছর ছয়টি পশুর উপর ভর করিয়া কোরবানির দাতাকে তাহার নিজের ভিতরে অদৃশ্য ভাবে লুকায়িত বাস্তবিক ষড়রিপু যেন এই নশ্বর পৃথিবীতে কোন ক্রমেই কোন কার্যক্রমের দ্বারা প্রভাবিত কারণ বা সংঘঠিত না হয়।

    বাঁকি একটি কোরবানি, কোরবানি দাতাকে তাহার নিজের নামে আল্লাহর ওয়াস্তে আল্লাহকে রাজি খুশির উদ্দেশ্যে নিজের প্রিয় বস্তু নিজস্ব জান/ জীবন আল্লাহ তালার রাহে কোরবানি করিয়া দিতে হয় এবং সেই দিন থেকে উক্ত কুরবানী দাতাকে ঈমানী জজবায় মৃত্যুর সাঁজে নিজেকে নিজের ঈমানী মন বা হৃদয়ে আল্লাহর এবাদত ও প্রেম ভালবাসায় মশগুল হইয়া, অদৃশ্য কাফনের কাপড়ে আবৃত করিয়া মৃত্যু মানুষের ন্যায় এই পৃথিবীতে বেঁচে থেকেও জীবন্ত লাশ হয়ে হালাল ও প্রকৃত প্রয়োজন ব্যতীত সকল প্রকার কামনা বাসনার ঊর্ধ্বে থাকিয়া, আল্লাহর হুকুমে প্রকৃত মৃত্যু আসা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয় ।

    এই ভাবেই মোট সাতটি কোরবানি, কোরবানি দাতার উপর ফরজ করা হইয়াছে। যাহার মধ্যে ছয়টি কোরবানি নিজের সন্তানের মতো কোরবানিকৃত পশুকে অতিপ্রিয় এবং যত্নে লালন পালন করিয়া এই সন্তানের মতো পালনকৃত পশুর উপর ভর বা প্রতিস্থাপিত হইয়া হৃদয়ে প্রচন্ড ব্যথা ও চোখের অশ্রুর বিনিময়ে কোরবানি দাতাকে নিজের মন বা ঈমানী হৃদয়ের মধ্যে অদৃশ্যভাবে লুকায়িত এক একটি ষড়রিপুর নাফসিয়াতি আম্মারার এক একটি কু-খায়েশ কে,এক এক বছর এক একটি করিয়া এক একটি পশুর উপর ছয়টি বছর ছয়টি, পৃথিবী কামিয়াবী পাপিও পাপের আধার বা ধারা-র হিংস্র পশু রুপি কু-রিপুকে জীবনের তরে কোরবানি করতে হয়।

    হইয়া আল্লাহ তালার প্রকৃত কোরবানির হাকিকত ! যাহা প্রত্যেক জ্বীন ও ইনসান তথা মানুষ এর মধ্যে প্রকৃত সামর্থ্য অনুযায়ী প্রত্যেক মমিন মুসলমানের উপর, হাকিকি ভাবে প্রকৃত অর্থে কোরবানি ফরজ করা হইয়াছে ।

    এখন আমরা আসি আমাদের মধ্যে বর্তমান প্রচলিত কোরবানির বাস্তব পরিবেশগত ও সমাজিক এবং নাজুক নিজস্ব মতবাদের দুর্বল ঈমানীয় চাটুকারীতার ধর্মীয় ধারায় কোরবানি দাতা গণের ভিতর কিছু মমিন মুসলমান ব্যক্তিগণ ব্যথিত অধিকাংশই মধ্যবিত্ত ও উচ্চ মধ্যবিত্ত,বিত্তবান-ধনী কোরবানি দাতা ব্যক্তিগণ তাহারা তাহাদের অতিরিক্ত টাকা যাহা হারাম- হালাল না দেখিয়া,অকারনে লৌকিকতা ও লোক দেখানো সামাজিক স্ট্যাটাস এবং বড়োলোকি ট্রেডিশনে উপর ভর করিয়া অহংকারের দাম্ভিকতায় লোক দেখানো সামাজিক মর্যাদা ও কোরবানি দাতা সাঁজিবার অভিপ্রায়ে প্রতিযোগিতামূলক প্রয়োজনের তুলনায় অতিরিক্ত টাকার গরমে অতি মূল্যমানে দুই এক দিন আগে হাট বাজার হইতে বড় মোটাতাজা নাদুস নুদুস পশু ক্রয় করিয়া কোরবানি দিয়ে থাকেন ! যেখানে থাকে মাংসের পরিমাণ কত হইবে তাহার হিসাব নিকাশ এবং অতিরিক্ত টাকার গরমে কোরবানি দেওয়ার অহংকারের অহমিকা !

    যেখানে থাকে না কোরবানির প্রকৃত হাকিকতের প্রকৃতগত অর্থ ! আল্লাহপাকের একান্ত সন্তুষ্টি অর্জন পূর্বক প্রেম ভালোবাসা বা নিজস্ব ঈমানী হৃদয়ের প্রিয় বস্তু বা জানের বস্তু এবং কোরবানির দেওয়ার প্রকৃত হাকিকি মূলক ফজিলত পণ্য ধর্মীয় আদেশ-নিষেধ ও প্রকৃত কোরবানির আল্লাহ প্রদত্ত কোরবানির নির্দেশনা পূর্ণ মূল হাকিকত !

    প্রকৃত অর্থে বলতে গেলে প্রকৃতি ও পরিবেশগত স্থান-কাল-মাত্র ভেদে বিশ্লেষণ করিলে যদি পতিওমান হয় যে,নিজ হইতে পশু অতি যত্নে সন্তানের মত লালন পালন পরিবেশগত ভাবে পশু পালন করা সম্ভব না হয়,তাহলে কিছু না হলেও কোরবানির কয়েকদিন আগে হাট বা বাজার হইতে নিজের কষ্টার্জিত হালাল উপায়ে ইনকাম কৃত শতভাগ হালাল অর্থ বা টাকায় সাদ ও সাধ্যের মধ্যে কোন প্রতিযোগিতা বা গোস্তের হিসাব নিকাশ না করিয়া লোক দেখানো কোন লৌকিকতার অহমিকা বা অহংকারকে সম্পূর্ণরূপ বিসর্জন দিয়ে কেবলমাত্র আল্লাহ্ তালার সন্তুষ্টি অর্জনের মন-মানসিকতা ও কষ্টার্জিত হালাল উপার্জনের মাধ্যমে অর্জিত অর্থ হইতে সাধ ও সাধ্যের মধ্যে নিজস্ব সামর্থ্য অনুযায়ী কোরবানির পশু ক্রয় করে আনিতে হইবে এবং তাহাকে কোরবানি দেওয়ার আগ মুহূর্ত পর্যন্ত যতটুকু সম্ভব অতি যত্নে মনের আবেগি আবেগে আল্লাহ তাআলার সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য নিজের অতিপ্রিয় হিসাবে তাহাকে লালন পালন করিতে হইবে এবং ঐ পশুর প্রতি নিজের প্রিয় বস্তু হিসেবে পৃথিবী কামিয়াবি ষড়রিপুর এক একটি পশু সুলভ নিজো মনের ভিতরের বিরাজমান হিংস্র পশুরুপি কু-খায়েস কে,আল্লাহর প্রকৃত নির্দেশ অনুযায়ী এবং কোরবানির সঠিক হাকিকতের প্রকৃত ঈমানী জজবার মহত্বতা ও মর্যাদা হৃদয়ে ধারণ করিয়া কোরবানি করিতে হইবে একমাত্র বর্তমান প্রেক্ষাপটে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের রাহে। এক কথায় বলিতে হয়ে “মনের পশু কে দাও কোরবানি, বনের পশু কে নেই।”তাই নিজস্ব এই পৃথিবী কামিয়াবী অতিপ্রিয় কষ্টার্জিত জানের বস্তুকে নির্দিষ্ট নিয়মে কোরবানি দিতে হবে শুধুমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের তরে।
    *জাহারুল ইসলাম জীবন*
    সাংবাদিক,লেখক,কবি ও সাহিত্যিক এবং গবেষক ( জাতীয় পুরস্কার প্রাপ্ত>১৯৯৯-২০০০ ইং অর্থ বৎসর)।

    সংবাদটি শেয়ার করুন

    Read More..

    হতদরিদ্রের মাঝে ঈদ সামগ্রী দিলেন এমপি সিদ্দিকুর রহমান পাটোয়ারী 
    ঈদের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান- শ্যামল 
    মাদক একটি অভিশপ্ত জীবন আলহাজ্ব সাখাওয়াৎ হোসেন সুমন 
    পবিত্র ঈদুল আজহার শুভেচ্ছা জানিয়েছেন আলহাজ্ব শাহ মঞ্জুর মোরশেদ চৌধুরী 
    সীতাকুণ্ডের কুমিরা হাটে জমে উঠেছে কোরবানির পশুর হাট
    দীঘিনালায় ঈদ উল আযহা উপলক্ষ্যে মুক্তিযোদ্ধার পরিবারের মাঝে উপহার সামগ্রী প্রদান  
    জলঢাকা থানার বিশেষ অভিযানে ৪জন আসামী গ্রেফতার
    বিনিদ্র রাত
    নোটিশ :