মোঃ সাখাওয়াত হোসেন লাবু
জেলা প্রতিনিধি
লালমনিরহাট।
২০২৭ সালের মধ্যে বহুল কাঙ্ক্ষিত তিস্তা মহাপরিকল্পনার আনুষ্ঠানিক কাজ শুরু হবে বলে মন্তব্য করেছেন ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রী আসাদুল হাবীব দুলু।
রোববার ৩০ আগস্ট রংপুর শিল্পকলা একাডেমিতে ‘রংপুর ইঞ্জিনিয়ারিং ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি’ আয়োজিত ‘প্রশিক্ষিত যুব ও যুবমহিলাদের কর্মসংস্থান ও আত্মকর্মসংস্থানের লক্ষ্যে কর্মসহায়ক যন্ত্রপাতি ও চাকরি প্রদান’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
তিস্তা মহাপরিকল্পনা নিয়ে বিভ্রান্তি দূর করে মন্ত্রী স্পষ্টভাবে বলেন, আমি মনে করি আমাদের রংপুরের মানুষ অত্যন্ত ভালো। আপনারা জানেন আমি একটা বিরাট আন্দোলন করেছি, করে যাচ্ছি এখনো- সেটি হলো তিস্তা মহাপরিকল্পনা। ‘জাগো বাহে তিস্তা আন্দোলন’, রংপুরের ২ কোটি মানুষ এই আন্দোলনে সম্পৃক্ত হয়েছিল। এটা নিয়ে নানা বিভ্রান্তি সৃষ্টি করা হয়, সোশ্যাল মিডিয়ায় নানান কথা বলা হয় যে, এটা হয়তো আমরা আষাঢ়ের মেঘের মতো মুখে ঝুলিয়ে রেখেছি। কিন্তু এখানে অনেক গণমাধ্যমকর্মী রয়েছেন, তাদের উদ্দেশ্যে আমি বলতে চাই যে, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় তিস্তা নিয়ে যখন পরিকল্পনার কথা বলা হয়েছিল, তখন পরিকল্পনার কিছুই করা হয়নি। এটা আমাদের জন্য খুব দুর্ভাগ্যজনক।
তিনি আরও বলেন, এখন যেহেতু ওই কমিটির সঙ্গে আমি যুক্ত রয়েছি, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আমাদের বলেছেন, শুকনা মৌসুমে তো পানি পাওয়া যাবে না। যদি পার্শ্ববর্তী দেশ আমাদের সঙ্গে পানি চুক্তি না করে, তাহলে শুকনা মৌসুমে পানি কীভাবে ধরে রাখা যায় সেইভাবে নকশা তৈরি করতে হবে। সেজন্য একটি টেকনিক্যাল কমিটি গঠন করে দেওয়া হয়েছে। গত সপ্তাহে আমরা বুয়েটে বৈঠক করেছি, আমি নিজেও সেখানে ছিলাম।
প্রধানমন্ত্রী বলছেন, বর্ষার পর রিজার্ভার তৈরি করে রাখতে হবে এবং সারফেস ওয়াটার থেকে পানি ধরে রাখতে হবে। এখানে আমাদের ১৬টি শাখা নদী রয়েছে, সেগুলোর সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করতে হবে। সে কারণেই কিছুটা বিলম্ব হচ্ছে। আপনারা ধৈর্য ধরুন, এই সরকারের আমলে এবং আশা করি ২০২৭ সালের মধ্যে তিস্তা মহাপরিকল্পনার আনুষ্ঠানিক কাজ শুরু হবে।
তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে যা যা করা দরকার তা করা হবে এবং
শুকনো মৌসুমে তিস্তা মহাপরিকল্পনা কার্যকরভাবে শুরু হবে বলে জানিয়েছেন মন্ত্রী।
আন্দোলনের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে তিনি বলেন, সুতরাং এখানে বিভ্রান্ত হওয়ার কিছু নেই। আমি রংপুরের সন্তান, এটা আমার জীবন-মরণের আন্দোলন ছিল। এখান থেকে আমি কোনোসময় আপস করতে পারি না, পিছিয়ে যাব না কোনোদিন। জনগণের ম্যান্ডেট পেয়ে বিএনপি রাষ্ট্রক্ষমতায় এসেছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আন্দোলনে যুক্ত ছিলেন লন্ডন থেকে। তিনি বলেছিলেন, যদি বাংলাদেশের মানুষ তাদের ম্যান্ডেট দেয়, তবে তিস্তা মহাপরিকল্পনা আমরা অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বাস্তবায়ন করব। সে কারণে অনেকে বলেন- পদ্মা হলো, কিন্তু তিস্তা হচ্ছে না কেন? পদ্মার কাজটা অনেক আগেই শেষ করা হয়েছিল। কিন্তু তিস্তা এগিয়ে যায়নি। সুতরাং আমি আশা করি এই মহাপরিকল্পনা আমরা বাস্তবায়ন করতে পারলে রংপুরের দৃশ্যপট পরিবর্তন হয়ে যাবে। সবাই সহযোগিতা করবেন, যেন আমরা কোনো বিভ্রান্তিতে না পড়ি।
প্রযুক্তি শিক্ষা ও আত্মকর্মসংস্থানের গুরুত্ব তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, পৃথিবী যে কত দূর এগিয়ে গেছে, প্রযুক্তিজ্ঞানের সঙ্গে সম্পৃক্ত ব্যক্তিদের সঙ্গে আলোচনা না করলে তা বোঝা যায় না। এ কারণে আরও নতুন নতুন প্রযুক্তি দিয়ে তরুণদের প্রশিক্ষিত করতে হবে, যাতে সক্ষমতা বাড়ে এবং তারা অন্যান্য ভাষাও শিক্ষা গ্রহণ করতে পারে। যারা দেশের বাইরে কাজ করতে চায়, তাদের জন্য সেই সুযোগ তৈরি হবে।
তিনি আরও বলেন, মালয়েশিয়ার সঙ্গে জনশক্তি রপ্তানির বড় চুক্তি থাকা সত্ত্বেও দক্ষ জনবলের অভাবে সুযোগ কাজে লাগানো যাচ্ছে না। তাই শুধু সরকারি চাকরির পেছনে না ছুটে দক্ষতা অর্জনের আহ্বান জানান তিনি। তার মতে, দক্ষতা বাড়িয়ে উদ্যোক্তা হতে পারলে পরিবারের পাশাপাশি আরও ১০ জনের কর্মসংস্থান তৈরি সম্ভব, যা স্বাধীনভাবে ও আত্মসম্মানের সঙ্গে বাঁচার সেরা পথ।
আয়োজকদের প্রশংসা করে তিনি বলেন, আমার পক্ষ থেকে যত ধরনের সহযোগিতার প্রয়োজন হয় করা হবে। ইকুইপমেন্ট কেনার মতো কোনো সহায়তা দরকার হলেও তা দেওয়া হবে।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ইআইটি রংপুরের পরিচালক মোহাম্মদ নাজমুল আলম নাজু। আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান ড. নাজনিন কাউসার চৌধুরী।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অর্থ মন্ত্রণালয়ের SICIP প্রোগ্রামের সহকারী নির্বাহী প্রোগ্রাম পরিচালক ও উপসচিব সোহেল মাহমুদ, ইনফরমাল সেক্টর ইন্ডাস্ট্রি স্কিলস কাউন্সিলের মির্জা নুরুল গনিত শোভন, রংপুর সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক মাহফুজ উন নবী চৌধুরী ডন, রংপুরের জেলা প্রশাসক ইসরাত জাহান, রংপুর জেলা সমাজসেবার উপ-পরিচালক অনিরুদ্ধ কুমার রায়, রিহ্যাবের সচিব ও চিফ কো-অর্ডিনেটর কাজী আবুল কাশেম, রংপুর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান সামু, রংপুর জেলা পরিষদের প্রশাসক সাইফুল ইসলাম, চিফ কো-অর্ডিনেটর মুরাদ হোসেন, রংপুর যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক আব্দুল ফারুক এবং রংপুর মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক সেলোয়ারা বেগম।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির মাধ্যমে প্রশিক্ষিত ৫০ জন যুব ও যুবমহিলার মাঝে কর্মসহায়ক যন্ত্রপাতি বিতরণ করা হয় এবং বিভিন্ন ট্রেডে ২৫ জনকে চাকরির নিয়োগপত্র দেওয়া হয়। উল্লেখ্য, ২০১০ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকেই ইআইটি এই কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। অনুষ্ঠান শেষে অতিথিদের হাতে সম্মাননা স্মারক তুলে দেওয়া হয়।