সাখাওয়াত হোসেন, শেরপুর প্রতিনিধি:
শৈশবের যে বয়সে অন্য শিশুরা হাসি-খেলায় মেতে ওঠে, সেই বয়সেই বিরল এক রোগের সঙ্গে লড়াই করছে নালিতাবাড়ী উপজেলার বাঘবেড় এলাকার ছোট্ট মাইশা। জীবন বাঁচাতে প্রয়োজন দীর্ঘমেয়াদি ও ব্যয়বহুল চিকিৎসা। মেয়ের মুখে হাসি ফেরাতে তাই সামর্থ্যের শেষটুকু দিয়ে ছুটে চলেছেন তার বাবা।
মাইশার চিকিৎসার জন্য এরই মধ্যে পরিবারকে নানা প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে যেতে হচ্ছে। চিকিৎসার খরচ বহন করা পরিবারের জন্য অত্যন্ত কঠিন হলেও মেয়ের জীবন বাঁচানোর আশায় হাল ছাড়ছেন না তার বাবা। কখনো ধার-দেনা, কখনো পরিচিতজনের সহযোগিতা—এভাবেই কষ্ট করে চিকিৎসার খরচ জোগাড় করছেন তিনি।
মেয়ের উন্নত চিকিৎসার আশায় পরিবারটি ভারতে পাড়ি জমিয়েছে। আগরতলা বিমানবন্দর থেকে যাত্রা করে তারা নিরাপদে হায়দ্রাবাদ বিমানবন্দরে পৌঁছেছে। অসুস্থ মেয়েকে নিয়ে দীর্ঘ এই যাত্রা ছিল তাদের জন্য অত্যন্ত কষ্টকর ও দুশ্চিন্তার। অনেক ঘোরাঘুরি ও নানা প্রতিকূলতা পেরিয়ে অবশেষে হায়দ্রাবাদে পৌঁছাতে পেরেছেন তারা।
পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ইনশাআল্লাহ আজ সন্ধ্যা ৬টার ফ্লাইটে হায়দ্রাবাদ থেকে ব্যাঙ্গালোরের উদ্দেশ্যে রওনা দেবেন তারা। সেখানে মাইশার চিকিৎসার পরবর্তী কার্যক্রম সম্পন্ন হবে।
মাইশার পরিবার জানায়, মেয়েটির চিকিৎসার ব্যয় বহন করা তাদের জন্য অত্যন্ত কঠিন। তবুও মেয়ের সুস্থতার আশায় তারা সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। তবে দীর্ঘ চিকিৎসার এই পথ পাড়ি দিতে তাদের আরও আর্থিক সহযোগিতার প্রয়োজন হতে পারে।
মাইশার দ্রুত সুস্থতা কামনা করে পরিবারের পক্ষ থেকে সবার কাছে দোয়া চাওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে অসুস্থ শিশুটির পাশে দাঁড়াতে সমাজের বিত্তবান ও সহৃদয় মানুষদের সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
একটি ছোট্ট প্রাণ আজ বেঁচে থাকার লড়াইয়ে। মাইশার পরিবারের কাছে প্রতিটি দোয়া, প্রতিটি সহযোগিতা হতে পারে নতুন আশার আলো। মহান আল্লাহ যেন মাইশাকে দ্রুত সুস্থতা দান করেন এবং তার চিকিৎসার পথ সহজ করে দেন—এটাই এখন পরিবারের একমাত্র প্রত্যাশা।