মো:সাগর মাদবর জেলা ক্রাইম রিপোর্টার (শরীয়তপুর:—
আচার বিক্রি করেই জীবিকা নির্বাহ করছেন মানিক সরদার (৪৬)। নানা স্বাদের মজাদার আচার বিক্রি করে তিনি চালিয়ে যাচ্ছেন তার ছোট পরিবার। প্রতিদিন গড়ে ১,২০০ থেকে ১,৫০০ টাকার আচার বিক্রি করেন তিনি। মাস শেষে বিক্রির পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় ৪০ হাজার টাকা। এই আয় দিয়েই পরিবারের সব খরচ চালান তিনি।
গত ৩৩ বছর ধরে নিজ হাতে তৈরি বিভিন্ন ধরনের আচার বিক্রি করে আসছেন মানিক সরদার। প্রতিদিন সকালে আচারের হাঁড়ি মাথায় নিয়ে বেরিয়ে পড়েন তিনি। গ্রাম-শহরের অলিগলি, বিশেষ করে স্কুলের সামনে ঘুরে ঘুরে আচার বিক্রি করেন। শিশু থেকে বৃদ্ধ—সব বয়সী মানুষই তার আচারের ভক্ত।
আচার বিক্রির সময় মানিক সরদারের পরিচিত ডাক—“আচার লাগবে আচার, নানান স্বাদের আচার, মজাদার আচার”—এই হাক শুনে ছুটে আসেন আচারপ্রেমীরা।
তিনি শরীয়তপুর জেলার জাজিরা উপজেলার পূর্ব নাওডোবা ইউনিয়নের কাদির মাদবর গ্রামের মৃত ইসমাইল সরদারের ছেলে। স্ত্রী, তিন মেয়ে ও এক ছেলেকে নিয়ে তার সংসার।
সরেজমিন রবিবার (২৩ আগস্ট ) দুপুরে মানিক সরদারের সঙ্গে দেখা হয় উপজেলার বড় কান্দি ইউনিয়নের উত্তর ডুবলদিয়া ডুবিসায়বর কাজীর হাট বাজারে সেখানে বসে আচার বিক্রি করছিলেন তিনি। তার চারপাশে ভিড় করেছিলেন স্থানীয় আচারপ্রেমীরা। অনেকে কিনে খাচ্ছেন, কেউ কেউ আগ্রহভরে আচারের স্বাদ নিচ্ছেন।
আচার কিনে খাচ্ছিলেন দিদার ও রফিক নামের দুই যুবক। দিদার বলেন, “আচার খেয়ে দেখলাম—খুবই সুস্বাদু।” রফিক বলেন, “টক-ঝাল আচার আমার খুব পছন্দ। মানিক ভাইয়ের আচার অনেক ভালো।”
প্রতিদিন সকালে বড় স্টিলের পাত্রে আচার সাজিয়ে বেরিয়ে পড়েন মানিক সরদার। যাতে রাস্তার ধুলাবালি বা পোকামাকড় না পড়ে, সেজন্য সব সময় পাত্র ঢেকে রাখেন। বড়ই, তেঁতুল, আম, আমড়া, চালতাসহ নানান ধরনের টক-মিষ্টি-ঝাল আচার বিক্রি করেন তিনি।
মানিক সরদার বলেন, “প্রতিদিন সকালে গ্রাম-শহরের বিভিন্ন স্কুলের সামনে ও অলিগলি ঘুরে বিক্রি করি। সন্ধ্যায় বাসায় ফিরি। প্রতিদিন ১২০০ থেকে ১৫০০ টাকার মতো বিক্রি হয়। এই আয় দিয়েই আমার পরিবারের খরচ চলে।”
এ বিষয়ে জাজিরা উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা শাহ আলম বাংলাদেশ সমাচার পত্রিকাকে বলেন, “মানিক সরদার একজন পরিশ্রমী ও আত্মনির্ভরশীল ব্যক্তি। সমাজসেবা অধিদফতরের পক্ষ থেকে আমরা তাকে বিভিন্ন ধরনের প্রশিক্ষণ ও ক্ষুদ্রঋণ প্রদানের মাধ্যমে সহায়তা করার চেষ্টা করব, যাতে তিনি আরও ভালোভাবে তার ব্যবসা পরিচালনা করতে পারেন।”
জাজিরা উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মোঃ আল আমিন বাংলাদেশ সমাচার পত্রিকাকে বলেন,“মানিক সরদার আমাদের সমাজের এক অনুকরণীয় ব্যক্তি। নিজের পরিশ্রমে তিনি যা করে যাচ্ছেন, তা প্রশংসনীয়। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তার মতো পরিশ্রমী মানুষদের সহযোগিতা করার জন্য আমরা সর্বদা প্রস্তুত। প্রয়োজনে তাকে প্রশিক্ষণ, আর্থিক সহায়তা এবং অনলাইনভিত্তিক বিপণনের সুযোগও করে দেওয়া হবে।”