সেলিম চৌধুরী জেলা সংবাদদাতা চট্টগ্রামঃ
চট্টগ্রামে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে শান্তি, মানবতা ও অহিংসার বার্তা নিয়ে আজ রোববার চট্টগ্রাম নগরীতে অনুষ্ঠিত হয়েছে বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ ধর্মীয় সমাবেশ ৫৫তম ঐতিহাসিক জশনে জুলুস। ভোর থেকেই নগরীর প্রতিটি সড়ক পরিণত হয়েছিল আশেকানে রাসূলের মিলনমেলায়।
শান্তি, সম্প্রীতি ও মানবতার বার্তা নিয়ে নেতৃত্ব দিলেন পীর আল্লামা সাবির শাহ।
ভোরের প্রথম আলো ফোটার আগেই নগরীর অলি-গলি থেকে খণ্ড খণ্ড মিছিল নিয়ে জমায়েত হতে থাকেন ধর্মপ্রাণ মানুষ। হাতে সবুজ পতাকা, কপালে নবীপ্রেমের নিশান, মুখে “ইয়া নবী সালাম আলাইকা” ধ্বনি। নারী, পুরুষ, শিশুসহ লাখো মানুষের উপস্থিতিতে পুরো চট্টগ্রাম আজ এক ধর্মীয় নগরীতে রূপ নেয়।
এবারের জুলুসের নেতৃত্ব দেন বিশ্ববিখ্যাত ইসলামি চিন্তাবিদ, দরবারে সিরিকোট শরীফের সাজ্জাদানশীন পীর আল্লামা সৈয়্যদ মুহাম্মদ সাবির শাহ। তাঁর নেতৃত্বেই আলমগীর খানকা-ই কাদেরিয়া সৈয়্যদিয়া তৈয়্যবিয়া থেকে শুরু হওয়া বিশাল জুলুসটি নগরীর দুই নম্বর গেট, মুরাদপুর, ষোলশহর, প্রবর্তক, ওয়াসা, চকবাজার, নিউ মার্কেট, লালদীঘি হয়ে জমিয়তুল ফালাহ জাতীয় মসজিদ ময়দানে গিয়ে শেষ হয়।
জুলুসজুড়ে ছিল নবীর শানে নাত-ই রাসূল, দরুদ পাঠ ও ইসলামি সংগীত। রাসূল (সা.)-এর আদর্শকে সামনে রেখে আয়োজকরা এ বছরও “শান্তি, ভ্রাতৃত্ব ও মানবিক মূল্যবোধ” এর কথা তুলে ধরেন।
আয়োজক সংগঠন আঞ্জুমান-এ রহমানিয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া ট্রাস্টের এক নেতা বলেন, “এই জুলুসের মূল উদ্দেশ্য হলো মহানবী (সা.)-এর জীবনাদর্শ বিশ্ববাসীর কাছে তুলে ধরা। তাঁর শিক্ষা দিয়েই সমাজ থেকে হিংসা-বিদ্বেষ দূর করে সম্প্রীতির বাংলাদেশ গড়া সম্ভব।”
জুলুসকে ঘিরে নগরীজুড়ে ছিল কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা।