মোহাম্মদ আবু সালেহ নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
নারায়ণগঞ্জের ভূমি কার্যালয়ে যথাসময়ে কর্মস্থলে উপস্থিত না থাকা এবং অনুপস্থিত থেকেও হাজিরা খাতায় আগাম স্বাক্ষর করার অভিযোগে দুই সহকারী কমিশনার (ভূমি)সহ ২০ কর্মকর্তা-কর্মচারীকে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) দিয়েছে জেলা প্রশাসন।
সোমবার (৩১ আগস্ট) সকালে ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিনের আকস্মিক পরিদর্শনে এ অনিয়মের বিষয়টি ধরা পড়ে। পরে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্টদের শোকজ করা হয়।
জেলা প্রশাসনের রাজস্ব বিভাগের কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্ব) জাকিয়া সরওয়ার লিমা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, সদর উপজেলা ভূমি কার্যালয়ের ১০ জন, সিদ্ধিরগঞ্জ রাজস্ব সার্কেলের ছয়জন এবং ফতুল্লা রাজস্ব সার্কেলের দুজন কর্মকর্তা-কর্মচারীকে শোকজ করা হয়েছে। পাশাপাশি দুই সহকারী কমিশনার (ভূমি)-কেও পৃথকভাবে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে।
শোকজ পাওয়া দুই সহকারী কমিশনার (ভূমি) হলেন সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) সাদিয়া আক্তার এবং ফতুল্লা রাজস্ব সার্কেলের সহকারী কমিশনার (ভূমি) অংমাচিং মারমা।
শোকজ নোটিশে বলা হয়েছে, সোমবার সকালে প্রতিমন্ত্রী ভূমি কার্যালয় পরিদর্শনে গিয়ে বেশ কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারীকে কর্মস্থলে পাননি। তবে ৩১ আগস্টের হাজিরা খাতায় তাদের স্বাক্ষর আগেই করা ছিল।
নোটিশে আরও বলা হয়, কর্মস্থলে অনুপস্থিত থেকেও হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করা সরকারি কর্মচারী শৃঙ্খলা ও আপিল বিধিমালা, ২০১৮ এবং সরকারি কর্মচারী (নিয়মিত উপস্থিতি) বিধিমালা, ২০১৯-এর লঙ্ঘন। শোকজ পাওয়া ব্যক্তিদের নোটিশ পাওয়ার তিন কার্যদিবসের মধ্যে লিখিত জবাব দিতে বলা হয়েছে।
এর আগে সোমবার সকাল ৯টার কয়েক মিনিট আগে খানপুর এলাকায় সদর উপজেলা ভূমি কার্যালয়ে যান প্রতিমন্ত্রী। একই চত্বরে সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি), ফতুল্লা ও সিদ্ধিরগঞ্জ রাজস্ব সার্কেলের কার্যালয় রয়েছে।
প্রতিমন্ত্রী হাজিরা খাতা পর্যালোচনা করার সময় কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারীকে কার্যালয়ে পাওয়া যায়নি। বিষয়টি জানতে পেরে প্রায় ২০ মিনিট পর সেখানে উপস্থিত হন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) রিনাত ফৌজিয়া। পরে ফতুল্লা রাজস্ব সার্কেলের সহকারী কমিশনার (ভূমি) অংমাচিং মারমাও সেখানে উপস্থিত হন।
পরে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অনুপস্থিতি এবং হাজিরা খাতায় আগাম স্বাক্ষরের বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে জেলা প্রশাসককে নির্দেশ দেন প্রতিমন্ত্রী।
শোকজ পাওয়া কর্মকর্তাদের মধ্যে সদর উপজেলা ভূমি কার্যালয়ের কানুনগো আব্দুস সাত্তার, সার্ভেয়ার মো. আসাদুজ্জামান, নাজির কাম ক্যাশিয়ার মাসুম মিয়া, অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক মাহফুজা আক্তার, সার্টিফিকেট সহকারী সাদিয়া আক্তার, চেইনম্যান মীর মোজাম্মেল হক, অফিস সহায়ক আব্দুস সালাম (রূপম), ইউনূস আলী, মোক্তার হোসেন এবং গাড়িচালক নাদিম হায়দার রয়েছেন।
সিদ্ধিরগঞ্জ রাজস্ব সার্কেলের কানুনগো ফারুক আলম, সার্ভেয়ার জামাল উদ্দিন, মিউটেশন কাম সার্টিফিকেট সহকারী জান্নাত হোসেন, নাজির কাজী তানজিরুল হক, অফিস সহায়ক মোকলেছ শেখ ও চেইনম্যান রফিকুল ইসলামকেও শোকজ করা হয়েছে।
এ ছাড়া ফতুল্লা রাজস্ব সার্কেলের সার্ভেয়ার মিল্টন রায় এবং অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক সাহাদাতকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে।
জেলা প্রশাসক রায়হান কবির বলেন, ভূমি কার্যালয়ে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অনুপস্থিতি এবং হাজিরা খাতায় আগাম স্বাক্ষরের বিষয়ে নোটিশ দেওয়া হয়েছে। তাদের জবাব পাওয়ার পর পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।