মোঃ সাখাওয়াত হোসেন লাবু জেলা প্রতিনিধি লালমনিরহাট:—-রংপুর নগরীর মাছুয়াপাড়ায় অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তীসহ একই পরিবারের চারজনকে হত্যার ঘটনায় নতুন তথ্য পেয়েছে পুলিশ।
সোমবার ৩১ আগস্ট বিকেলে মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের (ডিবি) উপকমিশনার সনাতন চক্রবর্তী গণমাধ্যমকর্মীদের এ বিষয়টি জানান।
তিনি গণমাধ্যম কর্মীদের বলেন, ‘গ্রেপ্তার সিদ্ধার্থ দাস ও মুগ্ধ দাসের মধ্যে ঘটনার আগে এবং পরে অনেকবার কথা হয়েছে। ৮০ ঘণ্টায় ৮০ বার কথা বলেছে তারা। এর অর্থ ঘটনার আগে এবং পরে প্রতি ঘণ্টায় একবার; যা অস্বাভাবিক এবং এ কারণে হত্যার ঘটনাটি পূর্বপরিকল্পিত বলে মনে হচ্ছে।’
জানা গেছে, গ্রেপ্তার মুগ্ধের বাবা কানু দাস আরেক আসামি সিদ্ধার্থের বাবা বিনয় দাসের ফুফাতো ভাই। সেই সূত্রে তারা চাচাতো ভাই।
এদিকে গ্রেপ্তার সিদ্ধার্থ দাস ও মুগ্ধ দাসের ডোপ টেস্টে মাদকের কোনো অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। ডোপ টেস্টের ফলাফলকে ঘিরে নতুন প্রশ্ন দেখা দিয়েছে; কারণ গ্রেপ্তারের পর পুলিশ জানিয়েছিল, ইয়াবা সেবনের জন্য সিদ্ধার্থ ও মুগ্ধ গণপতি চক্রবর্তীর বাড়ির ছাদে গিয়েছিলেন। তারা হত্যাকাণ্ডের আগে ও পরে ৯টি ইয়াবা সেবনের স্বীকারোক্তি দিয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছিল।
সোমবার বিকেলে রংপুর মহানগর পুলিশের পক্ষ থেকে ডোপ টেস্টের প্রতিবেদনের তথ্য নিশ্চিত করা হয়।
মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের (ডিবি) উপকমিশনার সনাতন চক্রবর্তী বলেন, মামলার তদন্তের অংশ হিসেবে আদালতের নির্দেশে গতকাল রোববার রংপুর কেন্দ্রীয় কারাগারে গিয়ে দুই আসামির প্রস্রাবের নমুনা সংগ্রহ করা হয়। পরে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নমুনা পরীক্ষা করা হয়। পরীক্ষার প্রতিবেদনে তাদের শরীরে মাদকের উপস্থিতি পাওয়া যায়নি।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ডোপ টেস্টে সরাসরি ‘ইয়াবা’ শনাক্ত করা হয় না। ইয়াবায় থাকা অ্যামফিটামিন বা মেথামফেটামিনজাতীয় উপাদানের উপস্থিতি পরীক্ষা করা হয়। তবে শরীরে এসব উপাদান নির্দিষ্ট সময়ের পর আর শনাক্ত নাও হতে পারে।
অন্যদিকে হত্যার ঘটনায় গ্রেপ্তার সিদ্ধার্থ দাস ও মুগ্ধ দাসকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তিন দিনের রিমান্ড আবেদন করেছে পুলিশ। তবে আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেওয়া, নতুন তদন্ত কর্মকর্তা নিয়োগসহ সার্বিক বিষয় বিবেচনায় নিয়ে তাদের দুই দিন প্রতিদিন তিন ঘণ্টা করে জেলগেটে জিজ্ঞাসাবাদের আদেশ দিয়েছেন আদালত। সোমবার বিকেলে রংপুরের মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতের বিচারক মো. রফিকুল ইসলাম এ আদেশ দেন।
উল্লেখ্য, গত ২২ আগস্ট রংপুর নগরীর মাছুয়াপাড়ায় অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী, তার স্ত্রী, মেয়ে ও ছেলের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় সিদ্ধার্থ দাস ও মুগ্ধ দাসকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তারা আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন।
এ ঘটনায় নগরীর কোতোয়ালি থানায় নিহত গণপতি চক্রবর্তীর বড় ভাই গোপীনাথ চক্রবর্তী বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে মামলা করেন। পরে মামলাটি থানা থেকে মহানগর ডিবিতে হস্তান্তর করা হয়। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা হিসেবে ডিবির পরিদর্শক জিন্নাত আলীকে নিযুক্ত করা হয়।