মোঃ রুহুল আমিন স্টাফ রিপোর্টার, টাঙ্গাইল জেলা:__
টাঙ্গাইলের মধুপুর উপজেলার রক্তিপাড়া বাসস্ট্যান্ডের উত্তর পাশে পুরোনো ও ব্যবহৃত ব্যাটারি সংগ্রহ করে অবৈধভাবে গলিয়ে বের করা হচ্ছে সিসা। অনুমোদনহীন এসব কারখানায় নেই পরিবেশসম্মত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কিংবা শ্রমিকদের নিরাপত্তার পর্যাপ্ত ব্যবস্থা। ব্যাটারি পোড়ানো ও গলানোর ফলে ছড়িয়ে পড়ছে বিষাক্ত ধোঁয়া ও দূষিত বর্জ্য। এতে একদিকে যেমন পরিবেশের মারাত্মক ক্ষতি হচ্ছে, অন্যদিকে ঝুঁকিতে পড়ছে আশপাশের মানুষের স্বাস্থ্য।
সরেজমিনে দেখা গেছে, বিভিন্ন স্থান থেকে সংগ্রহ করা পুরোনো ব্যাটারি স্তূপ করে রাখা হয়েছে কারখানার ভেতরে। পরে সেগুলো ভেঙে বা আগুনে গলিয়ে আলাদা করা হচ্ছে সিসা। এ সময় কালো ধোঁয়া ও তীব্র দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ছে আশপাশের এলাকায়। কারখানার আশপাশে পড়ে থাকতে দেখা গেছে ব্যাটারির অবশিষ্টাংশ ও বিভিন্ন ধরনের বর্জ্য।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ব্যবহৃত লেড-অ্যাসিড ব্যাটারি থেকে সিসা পুনরুদ্ধারের প্রক্রিয়া যথাযথ নিয়ন্ত্রণ ছাড়া করা হলে শ্রমিক ও আশপাশের বাসিন্দারা সিসার সংস্পর্শে আসতে পারেন। বিশেষ করে শিশুদের জন্য সিসা দূষণ অত্যন্ত উদ্বেগের বিষয়। দীর্ঘদিন সিসার সংস্পর্শে থাকলে শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ-প্রত্যঙ্গে ক্ষতিকর প্রভাব পড়তে পারে।
শুধু বাতাস নয়, কারখানা থেকে বের হওয়া বর্জ্য মাটি ও পানিতে মিশে পরিবেশের অনেক ক্ষতি করছে। ফলে দূষিত হয়ে পরছে কৃষিজমি, জলাশয় ও স্থানীয় পরিবেশ। কারখানার শ্রমিকদের অনেককেই যথাযথ সুরক্ষা সরঞ্জাম ছাড়াই ব্যাটারি ভাঙা ও গলানোর কাজে নিয়োজিত থাকতে দেখা যায়।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, দিনের পর দিন এ ধরনের কার্যক্রম চললেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর নজরদারি নেই। তাঁদের দাবি, জনবসতির কাছাকাছি এ ধরনের কারখানা পরিচালনা বন্ধ করে দ্রুত তদন্ত ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হোক।
পরিবেশবিদদের মতে, পুরোনো ব্যাটারি পুনর্ব্যবহার একটি প্রয়োজনীয় কার্যক্রম হলেও তা অবশ্যই অনুমোদিত ও পরিবেশসম্মত ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে করতে হবে। অনিয়ন্ত্রিতভাবে ব্যাটারি গলিয়ে সিসা বের করার ফলে পরিবেশের পাশাপাশি মানুষের জীবন ও স্বাস্থ্যের ওপর দীর্ঘমেয়াদি ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।