মোঃ মফিজুর রহমান
ঢাকা
শৈশব মানেই কৌতূহল, কল্পনা আর নিজের মতো করে কিছু তৈরি করার আনন্দ। কখনো কাগজে আঁকিবুঁকি, কখনো রঙের খেলায় মেতে ওঠা, আবার কখনো মাটির দলাকে নিজের কল্পনার রূপ দেওয়া—এসবের মধ্যেই লুকিয়ে থাকে শিশুর সৃজনশীলতার প্রথম প্রকাশ। সেই নির্মল শৈশবকে আরও আনন্দময় ও সৃজনশীল করে তুলতে রাজধানীর ভাটারা থানার জোয়ার সাহারা বাজার এলাকার অগ্রণী স্কুলে আয়োজন করা হয় কাদামাটি দিয়ে শিল্পকর্ম তৈরির এক ব্যতিক্রমী প্রশিক্ষণ কর্মসূচি।
শিবলী ড্রয়িং একাডেমির উদ্যোগে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে বিভিন্ন বয়সের ছেলে-মেয়েরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেয়। প্রচলিত শ্রেণিকক্ষের গণ্ডি পেরিয়ে হাতে কাদামাটি নিয়ে নিজেদের কল্পনাকে বাস্তবে রূপ দেওয়ার সুযোগ পেয়ে শিশু-কিশোরদের মধ্যে দেখা যায় ব্যাপক উৎসাহ ও আনন্দ।
কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া শিশুদের সামনে দেওয়া হয় কাদামাটি। এরপর কোনো নির্দিষ্ট ছক বা বাধ্যবাধকতার মধ্যে না রেখে তাদের নিজেদের ইচ্ছা ও কল্পনা অনুযায়ী বিভিন্ন জিনিস তৈরি করতে উৎসাহিত করা হয়। ছোট ছোট হাতের নিপুণ স্পর্শে কাদামাটির সাধারণ দলা ধীরে ধীরে রূপ নিতে থাকে নানা আকৃতিতে। কেউ তৈরি করে পুতুল, কেউ পশু-পাখি; কেউ ফুল, ফল, ঘরবাড়ি কিংবা নানা ধরনের নকশা। আবার কেউ নিজের কল্পনায় তৈরি করে সম্পূর্ণ ভিন্ন কোনো অবয়ব।
শিশুদের এই সৃষ্টিশীল কর্মকাণ্ডে পুরো পরিবেশ হয়ে ওঠে প্রাণবন্ত। কারও হাতে তৈরি হচ্ছে নতুন কিছু, আবার কেউ নিজের তৈরি শিল্পকর্মটি বন্ধুদের দেখিয়ে উচ্ছ্বসিত। কোথাও চলছে কাদামাটি নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা, কোথাও আবার তৈরি হচ্ছে একের পর এক নতুন আকৃতি। তাদের আনন্দ, হাসি ও ব্যস্ততায় কর্মসূচির স্থানটি যেন পরিণত হয়েছিল শৈশবের এক ছোট্ট শিল্পাঙ্গনে।
কাদামাটি দিয়ে শিল্পকর্ম তৈরি শুধু বিনোদনের বিষয় নয়; এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে শিশুর মানসিক ও সৃজনশীল বিকাশের গুরুত্বপূর্ণ দিক। নিজের হাতে কোনো কিছু তৈরি করার মাধ্যমে শিশু যেমন আনন্দ পায়, তেমনি তার কল্পনাশক্তি, মনোযোগ