মোঃ সাখাওয়াত হোসেন লাবু
জেলা প্রতিনিধি
লালমনিরহাট।
রংপুর নগরীর মাছুয়াপাড়ায় অবসরপ্রাপ্ত স্কুলশিক্ষক গণপতি চক্রবর্তীসহ একই পরিবারের চারজনকে হত্যার ঘটনায় জড়িতদের অল্প সময়ের মধ্যেই দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি কার্যকর হবে বলে জানিয়েছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী অধ্যক্ষ আসাদুল হাবিব দুলু।
তিনি বলেন, এটি একটি লোমহর্ষক ও মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ড। এমন ঘটনার নিন্দা জানানোর ভাষা তার নেই।
রবিবার ৩০ আগস্ট দুপুরে রংপুর নগরীর মাছুয়াপাড়ায় সপরিবারে নিহত অবসরপ্রাপ্ত স্কুলশিক্ষক গণপতি চক্রবর্তীর বাড়ি পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।
পরিবারটির ওপর নৃশংস হামলার প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, ঘটনাস্থলে এসে তিনি যতটুকু বুঝতে পেরেছেন, মাদকাসক্তদের কারণে নিহত পরিবারের অভিভাবক ও প্রিয় শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তীকে বিভিন্নভাবে বিরক্ত করা হতো। এ বিষয়ে তিনি বাধা দিতে যাওয়ার কারণেই হয়তো হত্যাকাণ্ডের সূত্রপাত হয়ে থাকতে পারে। তবে ঘটনার প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হতে আরও তদন্ত প্রয়োজন বলেও জানান তিনি।
মন্ত্রী বলেন, হত্যাকাণ্ডের পরপরই পুলিশ প্রশাসন মূল দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়েছে। তারা আদালতে হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে স্বীকারোক্তিও দিয়েছে। ফলে তদন্ত দ্রুত এগিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনি বলেন, বর্তমান সরকার এ ধরনের হত্যাকাণ্ডের ব্যাপারে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণ করেছে। অপরাধীদের দ্রুত বিচারের আওতায় আনতে ইতোমধ্যে দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল স্থাপন করা হয়েছে।
এর উদাহরণ হিসেবে তিনি সম্প্রতি ঢাকায় রামিশা হত্যাকাণ্ড এবং লালমনিরহাটের আদিতমারীতে সাত বছরের শিশু নন্দিনী হত্যার মামলার দ্রুত বিচার ও রায়ের বিষয়টি তুলে ধরেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, নন্দিনী হত্যার মামলার রায় ছয় কার্যদিবসের মধ্যে সম্পন্ন হয়েছে।
গণপতি চক্রবর্তীসহ পরিবারের চার সদস্য হত্যার মামলায় পুলিশ অতিসত্বর চার্জশিট দাখিল করবে বলেও আশা প্রকাশ করেন ত্রাণমন্ত্রী। তিনি বলেন, অধিকতর তদন্ত শেষে চার হত্যাকাণ্ডের চার্জশিট দ্রুত দাখিল করা হবে। এরপর অল্প সময়ের মধ্যেই এই জঘন্যতম হত্যাকাণ্ডের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি কার্যকর হবে।
রংপুর নগরীর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাব দেন মন্ত্রী। তিনি বলেন, হত্যাকাণ্ডের মূল আসামিরা আদালতে স্বীকারোক্তি দিয়েছে বলে তিনি জানতে পেরেছেন। তার মতে, রংপুরসহ দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির পেছনে মাদক একটি বড় কারন।
মাদক নির্মূলে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, মাদকের ব্যাপারে পার্লামেন্টে সর্বোচ্চ শাস্তি হিসেবে মৃত্যুদণ্ডের বিধান করা হয়েছে। তবে শুধু আইন করে মাদক নির্মূল করা সম্ভব নয়। এ জন্য জনগণ, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও প্রশাসনকে একসাথে কাজ করতে হবে।
রংপুরবাসীর প্রতি মাদকবিরোধী সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, পাড়া-মহল্লায় সামাজিক প্রতিরোধ তৈরি করা গেলে মাদকের ব্যবসা, পরিবহন ও সেবনের সাথে জড়িতদের আইনের আওতায় আনা সম্ভব হবে।
মন্ত্রী বলেন, মাদকের বিরুদ্ধে সবাইকে জেগে উঠতে হবে এবং প্রতিবাদ জানাতে হবে। সামাজিকভাবে মাদককে প্রতিহত করা গেলে অপরাধ কমানোর পাশাপাশি তরুণ প্রজন্মকে ভয়াবহ আসক্তি থেকে রক্ষা করা সম্ভব হবে।
চারজন মানুষকে হারানো পরিবারের স্বজনদের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে ত্রাণমন্ত্রী বলেন, তদন্ত দ্রুত শেষ করে অপরাধীদের বিচারের মুখোমুখি করা হবে এবং নৃশংস এই হত্যাকাণ্ডের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা হবে।