বিল্লাল হোসেন লিটু
স্টাফ রিপোর্টার, ঝিনাইদহ জেলা
জামায়াত ও এনসিপি মিলে বিএনপি সরকারের বিরুদ্ধে চক্রান্ত শুরু করেছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির নেতা রাশেদ খান। তিনি অভিযোগ করে বলেন, আওয়ামী লীগ ও শেখ হাসিনার ডিসেম্বরে দেশে ফেরার ঘোষণা এবং জামায়াত-এনসিপির লংমার্চের ঘোষণা একই চক্রান্তের অংশ।
মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ঝিনাইদহে বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত র্যালি শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
রাশেদ খান বলেন, জামায়াত ১৯৯৬ সালের মতো আবারও আওয়ামী লীগকে সঙ্গে নিয়ে বিএনপির বিরুদ্ধে মাঠে নামার ষড়যন্ত্র করছে। ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগকে রাজনীতিতে ফেরাতে তারা অপচেষ্টা চালাচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
সাম্প্রতিক আলোচিত ‘মক্কা সামরিক চুক্তি’ প্রসঙ্গে রাশেদ খান বলেন, এনসিপির প্রধান নাহিদ ইসলাম চুক্তিতে বাংলাদেশের যোগদানের বিষয়ে ইতিবাচক মন্তব্য করেছেন। জামায়াতসহ অন্যান্য রাজনৈতিক দলও এ বিষয়ে ইতিবাচক মনোভাব ব্যক্ত করেছে। দেশের জনগণের বৃহৎ অংশও চুক্তিতে বাংলাদেশের যোগদানের বিষয়ে ইতিবাচক বলে দাবি করেন তিনি।
তিনি বলেন, দেশের সার্বভৌমত্ব, কূটনৈতিক নীতি ও সার্বিক নিরাপত্তাসহ বিভিন্ন বিষয় বিবেচনায় নিয়ে সরকার মক্কা চুক্তিতে যোগদানের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে।
ডাকসুর জিএস পদ ফিরে পাওয়ার বিষয়ে রাশেদ খান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, ডাকসু নির্বাচনে ভিপি পদে নুরুল হক নুর এবং জিএস পদে তিনি জয়লাভ করেছিলেন। তবে আওয়ামী লীগ সরকারের ইশারায় তাকে পরাজিত ঘোষণা করা হয়েছিল বলে অভিযোগ করেন তিনি। জিএস পদ ফিরিয়ে দেওয়ার মধ্য দিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ শিক্ষার্থীদের ভোটাধিকারকে সম্মান জানিয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী ও তাদের সমর্থকরা স্থানীয় নির্বাচনের আগে দলে ফিরতে পারবেন কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে রাশেদ খান বলেন, যারা দলের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ভোট করে ভুল করেছেন এবং ভুল স্বীকার করে দলে ফিরতে চান, তাদের বিষয়টি দলীয় হাইকমান্ড বিবেচনা করবে। তবে যারা বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন এবং দলীয় প্রার্থীকে পরাজিত করতে মাঠে ছিলেন, তাদের বিষয়ে দল এখনো কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি।
এর আগে বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর র্যালিতে জেলা বিএনপির সভাপতি এমএ মজিদ, সাধারণ সম্পাদক জাহিদুজ্জামান মনা, সহসভাপতি মুন্সি কামাল আজাদ পান্নু, সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মজিদ বিশ্বাস, যুবদলের সভাপতি আহসান হাবিব রনক, ইবি ছাত্রদলের সাবেক আহ্বায়ক সাহেদ আহম্মেদ, জেলা ছাত্রদলের সভাপতি ইমরান হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক শাহরিয়ার রাসেলসহ বিএনপি, অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।