সেলিম চৌধুরী, চট্টগ্রামঃ
এটা একেবারেই পরিষ্কার, আমরা হেরেছি। একটু ঠান্ডা মাথায় ভাবলেই এটা বোঝা যায়।
আমরা এই যুদ্ধে ঢুকেছিলাম চারটা অবজেক্টিভ নিয়ে। এক, ইরানে রেজিম চেঞ্জ হবে। দুই, তারা তাদের নিউক্লিয়ার এনরিচমেন্ট বন্ধ করবে। তিন, সব লং-রেঞ্জ ব্যালিস্টিক মিসাইল তুলে দেবে। চার, তারা হুথি, হিজবুল্লাহ আর হামাসকে সাপোর্ট দেওয়া বন্ধ করবে।
এই চারটার একটাতেও পৌঁছানো সম্ভব হয়নি।
উল্টো এখন কী অবস্থা? ইরান হরমুজ প্রণালীর ওপর নিয়ন্ত্রণ বসিয়ে ফেলেছে। এটা তাদের হাতে বিশাল এডভান্টেজ তুলে দিয়েছে।
তাদের কাছে এখনো প্রচুর ব্যালিস্টিক মিসাইল, ক্রুজ মিসাইল, ড্রোন আছে। এগুলো দিয়ে তারা চাইলে মার্কিন ঘাঁটি, অঞ্চলে থাকা মার্কিন বাহিনী, আমেরিকার মিত্র দেশগুলো, এমনকি ইসরায়েলকেও টার্গেট করতে পারে।
এর অর্থ হল, ২৭ ফেব্রুয়ারিতে ইরান যেখানে ছিল, এখন তারা তার চেয়ে ভালো জায়গায় আছে। এই কথা সরাসরি বলাই যায়।
আরও মজার ব্যাপার হলো, ট্রাম্প নিজেই ৬ এপ্রিল রাতে ট্রুথ সোশ্যালে লিখেছেন, ‘আমরা ইরান যে ১০ দফা প্ল্যান দিয়েছে, সেটা ধরে আলোচনা করব।’ এটা আসলে একধরনের স্বীকার করে নেওয়া যে, আমরা হেরেছি।
এটা শুধু আমেরিকার হার না, ইসরায়েলের জন্য এটা আরও বড় পরাজয়। ইসরায়েলের ভেতরে এই ব্যাপারে কথা হচ্ছে। তারা বুঝে গেছে, ট্রেনটা যেদিকে যাচ্ছে, শেষটা তাদের জন্য খুবই খারাপ হবে। ক্যাটাস্ট্রফিক হবে।
ভবিষ্যতে যদি ইসরায়েল বা পশ্চিমা দেশগুলো আবার ইয়েমেনে হামলা করতে চায়, কিংবা লেবাননে কিছু করে, বা আবার ফিলিস্তিনে আগের মতো কিছু করতে যায়, তাহলে ইরান খুব সহজেই রেসপন্ড করতে পারবে।
তারা চাইলে হরমুজ বন্ধ করে দিতে পারে, বা টোল বাড়িয়ে দিতে পারে। এসকেলেশন বাড়ানোর জন্য ইরানের হাতে এখন ধাপে ধাপে অনেক অপশন আছে।