শহিদুল ইসলাম , নিকলী প্রতিনিধি
কিশোরগঞ্জের নিকলী উপজেলার জারইতলা ইউনিয়নের রোদারপুড্ডা এলাকায় অবস্থিত ঐতিহ্যবাহী দ্বীনি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান আল জামিয়াতুল ইসলামিয়া দারুল উলুম রোদারপুড্ডা-কে ঘিরে সম্প্রতি এক শিক্ষার্থী নিখোঁজের ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ও উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। তবে নিখোঁজ শিক্ষার্থীকে জীবিত ও সুস্থ অবস্থায় উদ্ধার হওয়ায় শেষ পর্যন্ত স্বস্তি নেমে আসে পরিবার, মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ এবং এলাকাবাসীর মাঝে।
নিখোঁজের ঘটনা
জানা যায়, মাদ্রাসার হিফজ বিভাগে অধ্যয়নরত ২৩ পারা কুরআন মুখস্থকারী শিক্ষার্থী মোঃ রিয়াদ (১৭), পিতা মোঃ মোখলেছুর রহমান, গত ১০ মে ২০২৬ রোববার বিকেল ৬টা ২০ মিনিটের দিকে রোদারপুড্ডা বাজার এলাকা থেকে কাউকে কিছু না জানিয়ে নিখোঁজ হন। ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ফুটেজে তার চলাচলের দৃশ্য ধরা পড়ে বলে জানা গেছে।
ঘটনার পরপরই পরিবারের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দেয় এবং পরবর্তীতে নিকলী থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অভিযোগ ও উত্তেজনা
তদন্ত চলাকালীন সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে, বিশেষ করে ফেসবুকে, মাদ্রাসা ও কর্তৃপক্ষকে জড়িয়ে বিভিন্ন অভিযোগ ও অপপ্রচার ছড়ানো হয়। পরিবারের পক্ষ থেকেও মাদ্রাসায় নির্যাতনের অভিযোগ তোলা হয়, যা পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তোলে।
মব তৈরির চেষ্টা ও উত্তেজনা
১১ মে রাতে এবং ১২ মে মঙ্গলবার রাতে মাদ্রাসাকে কেন্দ্র করে উত্তেজনাকর পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্যমতে, ১২ মে রাত প্রায় ৯টা ২০ মিনিটে শতাধিক নারী-পুরুষ মাদ্রাসা গেটে জড়ো হয়ে ইটপাটকেল নিক্ষেপ শুরু করেন। এতে মাদ্রাসায় অবস্থানরত শিক্ষার্থীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পরে স্থানীয় মুরব্বি ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।
উদ্ধার ও স্বস্তি
ঠিক সেই সময় খবর আসে, নিখোঁজ শিক্ষার্থী মোঃ রিয়াদকে কিশোরগঞ্জ শহরে খুঁজে পাওয়া গেছে। পরে থানা পুলিশের সহযোগিতায় তাকে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
উদ্ধারের পর রিয়াদ জানান, তিনি নিজ ইচ্ছায় মাদ্রাসা এলাকা ত্যাগ করেন এবং একটি পিকআপে করে কিশোরগঞ্জ রেলস্টেশন হয়ে ভৈরব যান। পরে আবার কিশোরগঞ্জে ফিরে আসেন। তিনি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন, তার নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই।
মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের বক্তব্য
মাদ্রাসার মোহতামিম মাওলানা আনাস বলেন, “আমরা শিক্ষার্থীদের নিজেদের সন্তানের মতো করে শিক্ষা দিয়ে থাকি। একটি অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাকে কেন্দ্র করে প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে যে অপপ্রচার চালানো হয়েছে, তা দুঃখজনক।”
শিক্ষকবৃন্দও শিক্ষার্থী নির্যাতনের অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন। একইসঙ্গে অন্যান্য শিক্ষার্থীরাও জানান, মাদ্রাসায় কোনো ধরনের নির্যাতনের ঘটনা ঘটে না।
সচেতন মহলের প্রতিক্রিয়া
এলাকার সচেতন মহল মনে করেন, যাচাই-বাছাই ছাড়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো সামাজিক সম্প্রীতির জন্য ক্ষতিকর। তারা বলেন, যেকোনো অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত ও আইনানুগ প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই সত্য উদঘাটন হওয়া উচিত। আবেগ বা গুজবের ভিত্তিতে আইন হাতে তুলে নেওয়া কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।