দেলোয়ার হোসাইন (ভূঁইয়া) চট্টগ্রাম।
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে বখাটে কিশোর গ্যাং এর তান্ডবে, সাধারণ মানুষ অতিষ্ট হয়ে পড়েছে! কোমলমতি শিশু ও স্কুলের ছাত্রী দের কে টার্গেট করে, স্কুলে আসা যাওয়ার পথে তাদেরকে উত্তপ্তের মাত্রা দিন দিন বেড়ে চলছে!
যেন এগুলো দেখার কেউ নেই, সমাজ ও রাষ্ট্রের কোন অভিভাবক নেই!
এই কিশোর গ্যাং এর অপরাধ, এতো মারাত্মক যে, মনে হচ্ছে বিপর্যয়ের গতিসীমা লঙ্ঘনের শেষ পর্যায়ে পৌঁছে গেছে!
সীতাকুণ্ড উপজেলার প্রতিটি পাড়ায় মহল্লায়, এদের বিচরণ চোখে পড়ার মতো! এই কিশোর গ্যাং দ্বারা সংঘটিত হচ্ছে না, এমন কোন অপরাধ খুঁজে পাওয়া মুশকিল! যেমন, চিনতাই, চুরি, ডাকাতি, নেশা সেবন ও বিক্রি, ইভটিজিং, ধর্ষণ, খুন, অপহরণ সহ ইত্যাদি অপকর্মের সাথে তারা জড়িয়ে পড়েছে।
শুধু সীতাকুণ্ড পৌরসভার মধ্যেই তাদের, আলাদা আলাদা তিনটি গ্রুপের সন্ধান পাওয়া গেছে। নীচে গ্রুপের ব্যবহৃত নাম উল্লেখ করা হলো।
DK, SF1207, OPL কিশোর গ্যাং এর মধ্যে, সীতাকুণ্ডে পৌরসভায় এই তিনটি গ্রুপ, মারাত্মক ভাবে অপরাধের সীমা ছাড়িয়ে গেছে! এদের মধ্যেই যারা শিক্ষিত, তারা অধিকাংশ সপ্তম শ্রেণি থেকে এইচ এস সি তে পড়ুয়া ছাত্র! সীতাকুণ্ড এই কিশোর গ্যাং এর অধিকাংশ সদস্য হলো, সীতাকুণ্ড সরকারি আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের ছাত্র! গতমাস খানেক আগে, সীতাকুণ্ড আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ে নবম শ্রেণিতে পড়ুয়া এক ছাত্র, উপজেলার পাশে মুছার ঘাঁটা নামক স্থান থেকে, কলেজ রোডে একটি কোচিং সেন্টারে, বিকেলে পাইভেট পড়তে গেলে, সেখান থেকে, কিশোর গ্যাং এর সদস্যরা মিলে ঐ ছাত্র কে ধরে নিয়ে যায় সীতাকুণ্ড মা ও শিশু হাসপাতালের পিছনে। সেখানে নিয়ে তাকে জাল টাকার নোট ও ইয়াবা সামনে দিয়ে ভিডিও ধারণ করে! এবং সন্ধ্যা সাত টায় ৩০ হাজার টাকা নিয়ে যাইতে বলে, নবম শ্রেণিতে পড়ুয়া ছাত্র টি, বাসায় গিয়ে কান্না করে তার বাবাকে পুরো ঘটনার বিবরণ দেওয়ার পরে, তার বাবা সীতাকুণ্ড পুলিশ প্রশাসনের সহযোগিতায়, সন্ধ্যা ০৭ টায় তিন জন কিশোর গ্যাং এর সদস্যকে গ্রেফতার করাইতে সক্ষম হয়।
গ্রেফতার করার পরে জানা গেল, কিশোর গ্যাং এর সদস্য গ্রেফতার হওয়া তিনজনই, সীতাকুণ্ড আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম ও দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী। যদিওবা পরক্ষণেই বিভিন্ন স্তরের লোকজনের তদবির ও সুপারিশে মুছ লেখা নিয়ে আসামিদের কে ছেড়ে দেওয়া হয়েছিল।
ইতিমধ্যেই পৌরসভার ২ নং ওয়ার্ডে অবস্থিত, পন্হিছিলা উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়ুয়া ছাত্রী দের, ইভটিজিং করার বিষয়ে অবগত হওয়ার পরে, আমাদের প্রতিবেদক ঘটনার সত্যতা যাচাই করতে, পন্হিছিলা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জনাব আবদুল কুদ্দুস নূরীর সাথে যোগাযোগ করলে, তিনি ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেন। এছাড়া ও আরও একাদিক অপরাধের সংবাদ প্রতিনিয়ত যোগ হচ্ছে! যেমন, সন্ধ্যা নামার সাথে সাথে, সিএনজি ও অটো রিকশার যাত্রী দের কে, সুযোগ বুঝে গলায় ছুরি ধরে, সর্বস্ব হাতিয়ে নিয়ে মেরে রক্তাক্ত করে ধাক্কা দিয়ে রাস্তার পাশে ফেলে যায়!
এমতাবস্থায় সীতাকুণ্ড পুলিশ প্রশাসন ও অপরাধ দমনের জন্য নিযুক্ত সরকারি বাহিনী গুলো, যদি যথাযথ পদক্ষেপে এগিয়ে না আসে তাহলে সাধারণ জনগণের ধারণা ও আশংকা করতেছে, সামনে যে কোন ধরনের বড় দুর্ঘটনার সম্মুখীন হতে পারে সীতাকুণ্ডের ছাত্রছাত্রীরা ও জনসাধারণ।