নোটিশ:
• সারা বাংলাদেশে প্রতিনিধি নিয়োগ চলছে - 01810-535157 (Whatsapp)
ব্রেকিং নিউজ :
সীতাকুণ্ড রেষ্টুরেন্ট উদ্বোধন কুলিয়ারচরে কিশোরীকে গণধ*র্ষণ: ৩ অভিযুক্ত গ্রেফতার আদালতে প্রেরণ সীতাকুন্ড র‍্যাবের অভিযানে ১১৫৬০ বস্তা সরকারি চাউল জব্দ গ্রেফতার ১ নিকলীতে হিফজ ছাত্র নিখোঁজ: অভিযোগ গুজব ও মব উত্তেজনার পর উদ্ধার বাজিতপুর জহুরুল ইসলাম নার্সিং কলেজে বর্ণাঢ্য আয়োজনে আন্তর্জাতিক নার্সেস ডে পালিত সীতাকুণ্ডে খাদ্য অধিদপ্তরের যৌথ অভিযানে প্রায় ৫৭৮ টন চাল জব্দ অপরাধ দমন অবৈধ অস্ত্র ও মাদক উদ্ধারে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের বিশেষ সাফল্য নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নে সমন্বিত কার্যক্রমের ওপর জোর মেহেরপুরে জেলা প্রশাসনের প্রেস ব্রিফিং অনুষ্ঠিত কোম্পানীগঞ্জে অভিযান চালিয়ে কারেন্ট জাল জব্দ  সীতাকুণ্ডে সরকারি দায়িত্ব পালন করার সময়, রেললাইনের গেইড ম্যানের উপরে হামলা

পলিতে হারানো বৈরাগীর খাল ফিরে পাচ্ছে প্রাণ স্বস্তিতে পবার ২০ হাজার পরিবার

  • আপডেট সময় বৃহস্পতিবার, ৭ মে, ২০২৬
  • ৮১ বার পঠিত

পলিতে হারানো বৈরাগীর খাল ফিরে পাচ্ছে প্রাণ, স্বস্তিতে পবার ২০ হাজার পরিবার

মোঃ জাকির হোসেন, স্টাফ রিপোর্টারঃ

রাজশাহীর পবা উপজেলার পারিলা ইউনিয়নের ঐতিহ্যবাহী বৈরাগীর খাল পুনঃখনন কাজ শুরু হওয়ায় স্থানীয় কৃষক ও সাধারণ মানুষের মাঝে নতুন আশার আলো জেগেছে। দীর্ঘদিন ধরে পলি জমে ভরাট হয়ে যাওয়া খালটি পুনঃখননের মাধ্যমে কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, সেচ ব্যবস্থার উন্নয়ন, জলাবদ্ধতা নিরসন এবং পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় ইতিবাচক পরিবর্তনের প্রত্যাশা করছেন এলাকাবাসী।

বৃহস্পতিবার (৭ মে) সকাল ১০টায় রাজশাহী-৩ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাড. মোহাম্মদ শফিকুল হক মিলন ফলক উন্মোচন ও প্রতীকী মাটি কাটার মধ্য দিয়ে খাল পুনঃখনন কাজের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। এ সময় প্রতীকীভাবে ডালিতে মাটি বহন করেন পবা উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আলী হোসেন, সদস্য সচিব আব্দুর রাজ্জাক এবং যুগ্ম আহ্বায়ক সুলতান আহমেদ।

অনুষ্ঠানে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, প্রশাসনের কর্মকর্তা, কৃষক, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে সরকারের নির্বাচনী অঙ্গীকার বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে ২০২৫-২০৩০ মেয়াদে দেশের ৬৪ জেলায় প্রায় ৭ হাজার কিলোমিটার খাল খনন, পুনঃখনন ও সংস্কার কার্যক্রম হাতে নেওয়া হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় চলতি অর্থবছরে পবা উপজেলার বৈরাগীর খালের তিন কিলোমিটার অংশ পুনঃখননের কাজ শুরু হয়েছে।

পবা উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, জলিলের ভাটা থেকে ফলিয়ার বিল পর্যন্ত তিন কিলোমিটার খাল পুনঃখননে ব্যয় ধরা হয়েছে ১ কোটি ২৯ লাখ ৫৯ হাজার ৭৭৬ টাকা। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে খালের পানি ফলিয়ার বিল হয়ে দুর্গাপুর উপজেলার হোজা নদীতে গিয়ে মিলিত হবে। এতে কৃষিজমিতে পানি নিষ্কাশন সহজ হবে এবং শুষ্ক মৌসুমে সেচ সুবিধা বাড়বে। স্থানীয়দের মতে, এই প্রকল্পের সুফল ভোগ করবেন প্রায় ২০ হাজার পরিবার।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংসদ সদস্য অ্যাড. মোহাম্মদ শফিকুল হক মিলন বলেন,

খাল পুনঃখনন শুধু একটি উন্নয়ন প্রকল্প নয়, এটি কৃষক, কৃষি ও গ্রামীণ অর্থনীতিকে টিকিয়ে রাখার গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ। দীর্ঘদিন ধরে খালগুলো ভরাট হয়ে যাওয়ায় কৃষকরা সেচ সংকট, জলাবদ্ধতা ও পানি নিষ্কাশনের সমস্যায় ভুগছেন। বৈরাগীর খাল পুনঃখননের মাধ্যমে এ অঞ্চলের কৃষিতে নতুন প্রাণ ফিরে আসবে।

তিনি আরও বলেন,

সরকার উন্নয়নকে মাঠপর্যায়ে বাস্তবায়নের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের জীবনমান উন্নয়নে কাজ করছে। কৃষক বাঁচলে দেশ বাঁচবে—এই লক্ষ্য সামনে রেখেই পানি ব্যবস্থাপনা শক্তিশালী করতে খাল পুনঃখননের মতো কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে।

সংসদ সদস্য মিলনের ভাষ্য অনুযায়ী, খাল পুনঃখননের ফলে শুধু সেচ সুবিধাই বাড়বে না, বর্ষা মৌসুমে দ্রুত পানি নিষ্কাশনের মাধ্যমে ফসল রক্ষা পাবে, জমির উর্বরতা বজায় থাকবে এবং কৃষকরা বছরে একাধিক ফসল উৎপাদনের সুযোগ পাবেন। একই সঙ্গে মৎস্যসম্পদ বৃদ্ধি ও পরিবেশ রক্ষায়ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে এই খাল।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন পবা উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. ইবনুল আবেদীন। তিনি বলেন,

বৈরাগীর খাল এলাকার কৃষি ও জনজীবনের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত। খালটি পুনঃখনন হলে পানি প্রবাহ স্বাভাবিক হবে, সেচব্যবস্থা উন্নত হবে এবং জলাবদ্ধতা অনেকাংশে কমে যাবে।

তিনি আরও বলেন,

প্রকল্পের কাজের মান ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে উপজেলা প্রশাসন নিয়মিত তদারকি করবে। পাশাপাশি পুনঃখননের পর খাল যেন আবার দখল, ভরাট বা দূষণের শিকার না হয়, সে বিষয়ে স্থানীয় জনগণের সহযোগিতাও প্রয়োজন।

খাল পুনঃখনন কাজ তদারকির জন্য উপজেলা পর্যায়ে একটি বিশেষ তদারকি কমিটি গঠন করা হয়েছে। এতে আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. ইবনুল আবেদীন এবং সদস্য সচিব হিসেবে রয়েছেন উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. মাহমুদুল ইসলাম। কমিটির অন্যান্য সদস্যদের মধ্যে রয়েছেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা এম এ মান্নান, উপজেলা প্রকৌশলী মকবুল হোসেন এবং পারিলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সাঈদ আলী।

স্থানীয় কৃষক কদম আলী বলেন, একসময় বৈরাগীর খাল ছিল এলাকার কৃষির প্রধান পানির উৎস। বর্ষার অতিরিক্ত পানি এই খাল দিয়ে নিষ্কাশন হতো এবং শুষ্ক মৌসুমে এখানকার পানি দিয়েই সেচ দেওয়া হতো। কিন্তু দীর্ঘদিন খাল ভরাট থাকায় কৃষকরা চরম ভোগান্তিতে পড়েছিলেন।

আরেক কৃষক মুনতাজ আলী জানান,

খালটি পুনঃখনন হলে বোরো, আমন ও সবজি চাষে ব্যাপক সুবিধা হবে। আগে পানির অভাবে অনেক জমি অনাবাদি থাকলেও এখন আবার চাষাবাদের সুযোগ তৈরি হবে।

পারিলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সাঈদ আলী বলেন,

খাল সচল থাকলে শুধু কৃষি নয়, পুরো এলাকার পরিবেশ ও জনজীবনে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। পানি জমে থাকার সমস্যা কমবে, রাস্তা ও বসতবাড়ির ক্ষয়ক্ষতিও হ্রাস পাবে।

পবা উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. মাহমুদুল ইসলাম বলেন,

প্রকল্পটি সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে পবা উপজেলার কৃষি খাতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আসবে। সেচ সুবিধা বৃদ্ধি, পানি সংরক্ষণ, জলাবদ্ধতা নিরসন এবং কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধির মাধ্যমে স্থানীয় অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন পবা উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আলী হোসেন, সদস্য সচিব সহকারী অধ্যাপক আব্দুর রাজ্জাক, যুগ্ম আহ্বায়ক সুলতান আহমেদ, কুতুবউদ্দিন বাদশা, পারিলা ইউপি চেয়ারম্যান সাঈদ আলী মোরশেদ, পারিলা ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক রেজাউল করিম, সদস্য সচিব মোখলেসুর রহমান রেন্টু, জেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব আলামিন, নহাটা পৌর ছাত্রদলের আহ্বায়ক সোহেল রহমানসহ বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মী, এলাকাবাসী এবং পবা উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা।

সোশ্যাল মিডিয়ায় সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো জনপ্রিয় সংবাদ
© All rights reserved © 2024 দৈনিক দেশ প্রতিদিন
Design & Development By HosterCube Ltd.