নোটিশ:
• সারা বাংলাদেশে প্রতিনিধি নিয়োগ চলছে - 01810-535157 (Whatsapp)
ব্রেকিং নিউজ :
সীতাকুণ্ড রেষ্টুরেন্ট উদ্বোধন কুলিয়ারচরে কিশোরীকে গণধ*র্ষণ: ৩ অভিযুক্ত গ্রেফতার আদালতে প্রেরণ সীতাকুন্ড র‍্যাবের অভিযানে ১১৫৬০ বস্তা সরকারি চাউল জব্দ গ্রেফতার ১ নিকলীতে হিফজ ছাত্র নিখোঁজ: অভিযোগ গুজব ও মব উত্তেজনার পর উদ্ধার বাজিতপুর জহুরুল ইসলাম নার্সিং কলেজে বর্ণাঢ্য আয়োজনে আন্তর্জাতিক নার্সেস ডে পালিত সীতাকুণ্ডে খাদ্য অধিদপ্তরের যৌথ অভিযানে প্রায় ৫৭৮ টন চাল জব্দ অপরাধ দমন অবৈধ অস্ত্র ও মাদক উদ্ধারে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের বিশেষ সাফল্য নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নে সমন্বিত কার্যক্রমের ওপর জোর মেহেরপুরে জেলা প্রশাসনের প্রেস ব্রিফিং অনুষ্ঠিত কোম্পানীগঞ্জে অভিযান চালিয়ে কারেন্ট জাল জব্দ  সীতাকুণ্ডে সরকারি দায়িত্ব পালন করার সময়, রেললাইনের গেইড ম্যানের উপরে হামলা

রাস্তা না থাকায় মাঠেই পড়ে আছে কৃষকের সোনালি স্বপ্ন

  • আপডেট সময় বৃহস্পতিবার, ৭ মে, ২০২৬
  • ৭৫ বার পঠিত

 

৭ মে ২০২৬

স্টাফ রিপোর্টারঃ শহিদুল ইসলাম নিকলী,কিশোরগঞ্জ

 

কিশোরগঞ্জের নিকলী উপজেলার দামপাড়া ইউনিয়নের নোয়াপাড়া গ্রামের হাওরজুড়ে এখন এক হৃদয়বিদারক দৃশ্য। আকাশজুড়ে কালো মেঘ, কখন নামবে বৃষ্টি সেই আতঙ্কে দিন-রাত এক করে বোরোধান শুকানোর আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন কৃষকরা। মাঠের এক পাশে কাটা ধানের স্তূপ, অন্য পাশে শত শত মানুষ পলিথিন ও ত্রিপল বিছিয়ে ধান শুকাতে ব্যস্ত। যেন প্রকৃতির সঙ্গে চলছে বাঁচা-মরার লড়াই।

কৃষকদের অভিযোগ, একদিকে শ্রমিক সংকট, অন্যদিকে অতিরিক্ত মজুরি তাদের দিশেহারা করে তুলেছে। বর্তমানে ধান কাটার শ্রমিকদের প্রতিদিন ১ হাজার ৮০০ টাকা পর্যন্ত দিতে হচ্ছে। এত ব্যয় করেও সময়মতো শ্রমিক পাওয়া যাচ্ছে না। বাধ্য হয়ে অনেক কৃষক নিজের পরিবারের সদস্যদের নিয়েই মাঠে নেমেছেন।

সবচেয়ে বেশি কষ্টে পড়েছেন ছোট ও মাঝারি কৃষকরা। তারা জানান, যে ধান ফলাতে সার, বীজ, কীটনাশক ও সেচে হাজার হাজার টাকা খরচ হয়েছে, সেই ধান এখন বিক্রি করতে হচ্ছে মাত্র ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা দরে। উৎপাদন খরচ তুলতেই হিমশিম খেতে হচ্ছে তাদের। লাভ তো দূরের কথা, ঋণের বোঝা নিয়েই দিন কাটছে কৃষকদের।

এর মধ্যেই নতুন দুর্ভোগ হয়ে দাঁড়িয়েছে যোগাযোগ ব্যবস্থা। নোয়াপাড়া গ্রামের হাওরাঞ্চলের অনেক এলাকায় এখনো চলাচলের উপযুক্ত রাস্তা নেই। কাঁচা ও ভাঙাচোরা পথের কারণে কোনো গাড়ি মাঠে যেতে পারে না। ফলে কৃষকরা ধান কাটার পরও বাড়িতে আনতে পারছেন না। দিনের পর দিন খোলা আকাশের নিচে পড়ে থাকছে ধান। বৃষ্টি নামলেই ভিজে নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে।

অনেক কৃষক চোখের পানি ধরে রাখতে পারেননি। তারা বলেন,

“সারা বছর কষ্ট করে ধান ফলাই। এখন কাটার পরে বাড়িতে নিতে পারতেছি না। বৃষ্টি আইলে সব শেষ হইয়া যাইবো।”

মাঠে দেখা যায়, কেউ মাথায় করে ধান বহন করছেন, কেউ আবার নৌকা বা বাঁশের তৈরি অস্থায়ী বাহনে ধান সরানোর চেষ্টা করছেন। কিন্তু পর্যাপ্ত রাস্তা ও যানবাহনের অভাবে সেই চেষ্টাও ব্যর্থ হয়ে পড়ছে।

স্থানীয়দের দাবি, হাওর অঞ্চলের কৃষকদের বাঁচাতে দ্রুত টেকসই রাস্তা নির্মাণ ও ধান পরিবহনের ব্যবস্থা করা জরুরি। না হলে প্রতি বছরই এমন দুর্ভোগের শিকার হতে হবে কৃষকদের।

প্রকৃতির সঙ্গে যুদ্ধ করে যারা দেশের খাদ্য ভাণ্ডার পূরণ করেন, আজ সেই কৃষকরাই অসহায় হয়ে খোলা আকাশের নিচে নিজেদের সোনালি স্বপ্ন রক্ষার যুদ্ধ

সোশ্যাল মিডিয়ায় সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো জনপ্রিয় সংবাদ
© All rights reserved © 2024 দৈনিক দেশ প্রতিদিন
Design & Development By HosterCube Ltd.