মোঃ জাকির হোসেন, স্টাফ রিপোর্টারঃ রাজশাহীতে প্রস্তাবিত ‘বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী হাসপাতাল’ প্রকল্প বাস্তবায়নের লক্ষ্যে মাঠপর্যায়ের তৎপরতা শুরু হয়েছে। এরই অংশ হিসেবে সোমবার রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরিদর্শন করেছেন চীন সরকারের পাঁচ সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের চিকিৎসক প্রতিনিধি দল। মূলত হাসপাতালের অবকাঠামো, চিকিৎসা সেবা এবং ১০০০ শয্যার বৃহৎ হাসপাতাল নির্মাণের উপযোগিতা যাচাই করতেই এই বিশেষ সফর।
সোমবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে প্রতিনিধি দলটি পুঠিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পৌঁছান। প্রায় ঘণ্টাখানেক অবস্থানকালে তারা হাসপাতালের জরুরি বিভাগ, বিভিন্ন ওয়ার্ড এবং বহিঃবিভাগের চিকিৎসা কার্যক্রম নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করেন। এ সময় তারা হাসপাতালের বর্তমান শয্যা সংখ্যা, প্রতিদিনের রোগীর চাপ এবং আধুনিক চিকিৎসা সরঞ্জাম স্থাপনের সুযোগ-সুবিধা নিয়ে স্থানীয় স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।
চীনা বিশেষজ্ঞ দলের নেতৃত্বে ছিলেন চিকিৎসা বিশেষজ্ঞ চেন শিউওয়েন, ঝাও ইয়ান্নান, লি হং কুন, লিউ জুন এবং দং লি। সফরকালে তাদের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন ডা. হাবিবুর রহমান, ডা. এস আই এম রাজিউল করিম, ডা. সূচনা মনোহরা এবং ডা. মো. জনাব আলী-মুস্তাফিজসহ স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, পুঠিয়ায় এক হাজার শয্যাবিশিষ্ট এই বিশেষায়িত হাসপাতাল নির্মাণের প্রাথমিক সম্ভাব্যতা যাচাই করাই ছিল এই সফরের মূল উদ্দেশ্য। পুঠিয়া পরিদর্শন শেষে প্রতিনিধি দলটি রাজশাহী বিভাগীয় স্বাস্থ্য কার্যালয়ে এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে অংশ নেন এবং পরবর্তীতে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালের বর্তমান কার্যক্রম পরিদর্শন করেন।
স্বাস্থ্য সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে উত্তরবঙ্গের চিকিৎসা খাতে এক বৈপ্লবিক পরিবর্তন আসবে। বাংলাদেশ ও চীনের যৌথ স্বাস্থ্য সহযোগিতার এই উদ্যোগকে একটি মাইলফলক হিসেবে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা।