মোঃ জাকির হোসেন, রাজশাহীঃ
রাজশাহীর রাজনৈতিক আকাশে আবারও মধ্যমণি হয়ে আবির্ভূত হয়েছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) হেভিওয়েট নেতা মিজানুর রহমান মিনু। দীর্ঘ বিরতি ও রাজনৈতিক চড়াই-উতরাই পেরিয়ে তিনি এখন কেবল রাজশাহী-২ (সদর) আসনের সংসদ সদস্যই নন, বরং গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের ভূমি মন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়ে নতুন এক ইতিহাসের সূচনা করেছেন।
নগরপিতা থেকে জাতীয় নেতা এক বর্ণাঢ্য উত্থান।
মিজানুর রহমান মিনুর রাজনৈতিক যাত্রা শুরু হয়েছিল তৃণমূল থেকে। তবে তিনি আলোচনার তুঙ্গে আসেন ১৯৯১ সালে। মাত্র ৩২ বছর বয়সে ১৯৯১ সালের ২১ মে সরাসরি ভোটে রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের (রাসিক) প্রথম মেয়র নির্বাচিত হয়ে চমক লাগিয়ে দেন তিনি। এরপর টানা প্রায় ১৭ বছর (১৯৯১-৯৩ এবং ১৯৯৪-২০০৭) মেয়র ও সংসদ সদস্যের দায়িত্ব পালন করে রাজশাহীর অবকাঠামো ও সৌন্দর্যায়নে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনেন, যার ফলে জনমনে তিনি ‘আধুনিক রাজশাহীর স্থপতি’ হিসেবে জায়গা করে নেন।
সংসদীয় রাজনীতি ও দলীয় নেতৃত্ব মেয়র হিসেবে সফলতার পর ২০০১ সালে অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি রাজশাহী-২ আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। সেই নির্বাচনে বিপুল ভোটে জয়ী হয়ে তিনি প্রথমবার সংসদে যান। বিএনপির কেন্দ্রীয় রাজনীতিতে তার প্রভাব ছিল অপরিসীম। তিনি দলটির যুগ্ম মহাসচিব এবং সাংগঠনিক সম্পাদকের মতো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন। বর্তমানে তিনি বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টার দায়িত্ব পালন করছেন।
বিগত বছরগুলোতে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা, অসংখ্য মামলা এবং কারাবরণ তাকে দমাতে পারেনি। মাঠের রাজনীতিতে সক্রিয় থেকে তিনি রাজশাহীতে বিএনপির সাংগঠনিক শক্তি ধরে রেখেছিলেন। দীর্ঘ সময় সংসদের বাইরে থাকলেও ২০২৬ সালের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি বীরদর্পে ফিরে আসেন। ধানের শীষ প্রতীকে ১ লাখ ২৮ হাজার ৫৪৬ ভোট পেয়ে তিনি পুনরায় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।
গত ১৭ ফেব্রুয়ারি সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ গ্রহণের পর ১৭ ফেব্রুয়ারি তাকে ভূমি মন্ত্রণালয়ের পূর্ণ মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়। দীর্ঘ কয়েক দশক পর রাজশাহী সদর আসন থেকে কোনো নেতা পূর্ণ মন্ত্রীর মর্যাদা পাওয়ায় উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে পুরো পদ্মা পাড়ে।