মো:দেলোয়ার, জয়পুরহাট:
সরকারের নির্দেশকে বৃদ্ধাঙ্গুলী দেখিয়ে নীতিমালা লঙ্ঘন করে তিনফসলি কৃষি জমি নষ্ট করে শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে জয়পুরহাটের ক্ষেতলালে স্থাপনা নির্মাণের কাজ শুরু করেছে জয়পুরহাটের ক্ষেতলালের আয়মাপুর এলাকার প্রভাবশালী শামীম হোসেন তালুকদার নামে এক ব্যক্তি।স্থানীয়রা জানান,গভীর নলকুপ স্কীমের প্রায় ৩০ একর তিনফসলি কৃষি জমিকে হুমকির মুখে ফেলে এখানে শিল্পপ্রতিষ্ঠানের সীমানা প্রাচীর নির্মাণের জন্য অবৈধ ভাবে ট্রাক্টর দিয়ে জমিতে মাটি ভরাটের কাজ চলছে। শামীম হোসেন তালুকদার প্রশাসনের কাছে প্রকৃত তথ্য গোপণ রেখে হয়ত নির্মাণের অনুমতি নিয়েছেন,যা তদন্ত করলে তার সত্যতা পাওয়া যাবে।
উপজেলার মামুদপুর ইউনিয়নের আয়মাপুর গ্রামের সামনে ক্ষেতলাল- গোপিনীথপুর আঞ্চলিক রাস্তার উত্তর পার্শ্বে সরজমিন গিয়ে স্থানীয় কৃষকদের সাথে কথা বলে জানা যায় প্রভাবশালী ব্যক্তি শামীম হোসেন তালুকদার ফসলিজমিতে শ্রেণি পরিবর্তন করার পায়তারা করে শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার জন্য সীমানা প্রাচীর নির্মাণের কাজ শুরু করেছেন।অথচ এই মাঠে গ্রামের কৃষকদের প্রায় ৩০ একর জমিতে তিনফসলি শস্য আবাদ হয়।এই মাঠের পানি যাওয়ার নালাগুলো একটু নিচু হওয়ায় গভীর নলকূপের পানি ও বৃষ্টির পানি পশ্চিম দিকে গড়িয়ে যায়।কিন্তু আঞ্চলিক রাস্তার পাশে ফসলি জমিতে শিল্পপ্রতিষ্ঠানের সীমানা নির্মাণের কাজ শুরু হওয়ায় নালাগুলো নষ্ট হওয়ার আশংকায় তারা শঙ্কিত।
কৃষকদের অভিযোগ,কৃষিজমিতে স্থাপনা নির্মাণে
সরকারি নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে নালাগুলো নষ্ট করে সীমানা প্রাচীর গড়ে তোলার এমন অদৃশ্য ক্ষমতার জোর সবাইকে অবাক করেছে।বর্ষা মৌসুমে নালাগুলোতে পানি জমে ফসল নষ্ট হলে কৃষকরা যাতে নিরুপায় হয়ে প্রভাবশালী মালিকের কাছে স্বল্পমূল্যে জমি বিক্রি করে দেয়,সেই ফাঁদ পেতেছে বলে মনে করেন কৃষকরা।
কৃষি জমি নষ্ট করে শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার বিষয়ে জানতে চাইলে শামীম হোসেন তালুকদার বলেন, আমাদের পৈতৃক সম্পত্তি এখানে স্থাপনা নির্মাণ হবে মাটিতে ভরাট কাজ চলছে এবং সীমানা প্রাচীর দেয়া হচ্ছে।
এ বিষয়ে জয়পুরহাট জেলা পরিবেশ সাংবাদিক ফোরামের সাধারণ সম্পাদক বলেন, কৃষিজমি সুরক্ষা ও ভূমি ব্যবহার আইন থাকলেও এর কোনো কার্যকর প্রয়োগ নেই আমাদের দেশে। এই আইন অল্প পরিসরে বাস্তবায়ন হলেও কিছুটা কৃষিজমি রক্ষা করা যেত। যেভাবে জমি ভরাট করা হচ্ছে, তাতে করে একসময় খাদ্যের অভাব দেখা দিতে পারে। সময় যথ যাচ্ছো কৃষি জমি ভরাটের প্রবণতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। যে যার ইচ্ছে মতো এই কাজ করছে।
ক্ষেতলাল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সানজিদা চৌধুরী বলেন,কৃষি জমির শ্রেণী পরিবর্তন করে অন্য কোনো ধরনের শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার সুযোগ নেই।অবশ্যই খোঁজখবর নিয়ে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানান তিনি।