নোটিশ:
• সারা বাংলাদেশে প্রতিনিধি নিয়োগ চলছে - 01810-535157 (Whatsapp)
ব্রেকিং নিউজ :
সীতাকুণ্ড রেষ্টুরেন্ট উদ্বোধন কুলিয়ারচরে কিশোরীকে গণধ*র্ষণ: ৩ অভিযুক্ত গ্রেফতার আদালতে প্রেরণ সীতাকুন্ড র‍্যাবের অভিযানে ১১৫৬০ বস্তা সরকারি চাউল জব্দ গ্রেফতার ১ নিকলীতে হিফজ ছাত্র নিখোঁজ: অভিযোগ গুজব ও মব উত্তেজনার পর উদ্ধার বাজিতপুর জহুরুল ইসলাম নার্সিং কলেজে বর্ণাঢ্য আয়োজনে আন্তর্জাতিক নার্সেস ডে পালিত সীতাকুণ্ডে খাদ্য অধিদপ্তরের যৌথ অভিযানে প্রায় ৫৭৮ টন চাল জব্দ অপরাধ দমন অবৈধ অস্ত্র ও মাদক উদ্ধারে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের বিশেষ সাফল্য নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নে সমন্বিত কার্যক্রমের ওপর জোর মেহেরপুরে জেলা প্রশাসনের প্রেস ব্রিফিং অনুষ্ঠিত কোম্পানীগঞ্জে অভিযান চালিয়ে কারেন্ট জাল জব্দ  সীতাকুণ্ডে সরকারি দায়িত্ব পালন করার সময়, রেললাইনের গেইড ম্যানের উপরে হামলা

ইরানের ইতিহাসে মহানায়কেরা

  • আপডেট সময় মঙ্গলবার, ৩ মার্চ, ২০২৬
  • ১২১ বার পঠিত

সেলিম চৌধুরী,চট্টগ্রাম:

 

প্রাবন্ধিক ও কলামিস্ট মনোয়ার হোসেন রতন

ইরান শুধু একটি রাষ্ট্র নয়—ইরান একটি সভ্যতা; প্রতিরোধের নাম, অটল আত্মমর্যাদার ইতিহাস। হাজার বছরের ধারাবাহিকতায় এই ভূখণ্ড জন্ম দিয়েছে এমন সব মহানায়কের, যারা সাম্রাজ্যবাদ, আগ্রাসন ও অন্যায়ের সামনে কখনো মাথা নত করেননি। ইতিহাসের প্রতিটি বাঁকে তাঁদের আদর্শ আজও ইরানকে দাঁড় করিয়ে রাখে।

১. সাইরাস দ্য গ্রেট
ইরানের ইতিহাসে প্রথম মহানায়ক হিসেবে যাঁর নাম উচ্চারিত হয়, তিনি সাইরাস দ্য গ্রেট।
তিনি কেবল বিশাল সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতা নন; ইতিহাসের প্রথম মানবাধিকার ঘোষণাকারী হিসেবেও পরিচিত। ধর্মীয় স্বাধীনতা, ন্যায়বিচার ও মানবিক শাসন—এই তিন নীতির ওপর দাঁড়িয়ে তিনি রাষ্ট্র গড়েছিলেন। তাঁর “সাইরাস সিলিন্ডার” আজও মানব সভ্যতার গর্ব।

২. দারিয়ুস দ্য গ্রেট
রাষ্ট্র পরিচালনা, আইন, করব্যবস্থা ও অবকাঠামো—সব ক্ষেত্রেই তিনি ছিলেন অসাধারণ সংগঠক।
পারস্যকে তিনি শুধু শক্তিশালী করেননি; শৃঙ্খলিত ও ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্রে রূপ দিয়েছিলেন।

৩. ইমাম আলী
যুদ্ধক্ষেত্রে বীর, শাসনে ন্যায়পরায়ণ, মানবতায় অতুলনীয়।
ইমাম আলীর শাসনদর্শন আজও নিপীড়িত মানুষের জন্য আলোকবর্তিকা। তিনি শিখিয়েছেন—ক্ষমতা নয়, ন্যায়ই রাষ্ট্রের ভিত্তি।

৪. নাদির শাহ
ইরানের ইতিহাসের অন্যতম দুর্ধর্ষ সেনানায়ক।
ভেঙে পড়া পারস্যকে তিনি আবার মাথা তুলে দাঁড় করিয়েছিলেন। শত্রুর চোখে আতঙ্ক, আর স্বদেশের কাছে আত্মমর্যাদার প্রতীক।

৫. ইমাম খোমেনি
২০শ শতাব্দীর ইতিহাসে ইরানের সবচেয়ে প্রভাবশালী বিপ্লবী ব্যক্তিত্ব।
তিনি প্রমাণ করেছেন—জনগণ জেগে উঠলে সাম্রাজ্যবাদী শক্তিও টিকে থাকতে পারে না। ১৯৭৯ সালের ইসলামী বিপ্লব শুধু রাজনৈতিক পরিবর্তন নয়; ছিল আত্মপরিচয়ের পুনর্জাগরণ।

৬. কাসেম সোলাইমানি
আধুনিক যুগের প্রতিরোধের প্রতীক।
তিনি অস্ত্রের চেয়েও বেশি শক্তিশালী ছিলেন তাঁর আদর্শ, সাহস ও আত্মত্যাগে—যা অনুগামীদের অনুপ্রাণিত করেছে সীমান্ত পেরিয়ে।

৭. আয়াতুল্লাহ আলী খামিনি
ইরানের সীমান্ত ছাড়িয়ে তিনি নিপীড়িত মানুষের নিরাপত্তার প্রতীক হয়ে উঠেছেন।
রাষ্ট্রনেতৃত্বে আদর্শ ও ধৈর্যের সমন্বয় তাঁকে আলাদা করেছে।

ইরান কেন বারবার মাথা তুলে দাঁড়ায়?
কারণ ইরানের ইতিহাস কেবল রাজাদের ইতিহাস নয়—
এটি প্রতিরোধের ইতিহাস, আত্মমর্যাদার ইতিহাস, শহীদের ইতিহাস।
যে জাতির শিকড় এত গভীরে,
যে জাতি সাইরাসের মানবতা, আলীর ন্যায়, খোমেনির প্রতিবাদ ও সোলাইমানির আত্মত্যাগ বহন করে—
সে জাতিকে পরাজিত করা যায়,
কিন্তু ভাঙা যায় না।
ইরান ইতিহাসে ছিল, আছে, থাকবে—
মহানায়কদের উত্তরাধিকার নিয়ে।

সোশ্যাল মিডিয়ায় সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো জনপ্রিয় সংবাদ
© All rights reserved © 2024 দৈনিক দেশ প্রতিদিন
Design & Development By HosterCube Ltd.