মোঃ জাকির হোসেন,রাজশাহীঃ
রাজশাহীর পুঠিয়ায় ঢাকা-রাজশাহী মহাসড়কে বেপরোয়া গতির দুই ড্রাম ট্রাকের প্রতিযোগিতায় প্রাণ হারিয়েছেন আক্কাস আলী খলিফা (৫০) নামে এক পথচারী। মঙ্গলবার সকালে বিড়ালদহ মাজার সংলগ্ন এলাকায় এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত আক্কাস আলী চারঘাট থানাপাড়া এলাকার বাসিন্দা বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে।
দুর্ঘটনার বিবরণ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভোরের দিকে বিড়ালদহ মাজার এলাকায় দুটি ড্রাম ট্রাক একে অপরকে ওভারটেক করার প্রতিযোগিতায় মেতে ওঠে। তীব্র গতিতে চলার সময় একটি ট্রাক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে থাকা আক্কাস আলীকে চাপা দেয়। চাকার নিচে পিষ্ট হয়ে ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়।
দুর্ঘটনার পর এলাকায় চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী ঘাতক ট্রাক দুটিকে ধাওয়া করে আটক করে এবং মহাসড়ক অবরোধ করে। একপর্যায়ে জনতা ট্রাক দুটিতে আগুন ধরিয়ে দেয়। দাউ দাউ করে জ্বলতে থাকা ট্রাকের ধোঁয়ায় মহাসড়ক আচ্ছন্ন হয়ে পড়ে এবং প্রায় দুই ঘণ্টা যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ থাকে।
সংবাদ সংগ্রহের জন্য ঘটনাস্থলে গেলে স্থানীয়দের রোষানলে পড়েন সাংবাদিকরা। ছবি ও ভিডিও ধারণের সময় দৈনিক যায়যায় দিন পত্রিকার সাংবাদিক মোহাম্মদ আলীর ওপর চড়াও হয় উত্তেজিত জনতা। তাঁর স্মার্টফোনটি কেড়ে নিয়ে ভেঙে ফেলা হয়। এছাড়া আরও বেশ কয়েকজন গণমাধ্যমকর্মীর মোবাইল ফোন ক্ষতিগ্রস্ত করার অভিযোগ উঠেছে।
পরিস্থিতি সামাল দিতে পবা হাইওয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছালে তাদের ওপরও হামলা চালানো হয়। উত্তেজিত জনতা পুলিশের একটি ভ্যানে ভাঙচুর চালায়। পরবর্তীতে অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য এবং ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে দীর্ঘ প্রচেষ্টার পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক করে।
পবা হাইওয়ে থানার ইনচার্জ (ওসি) মোজাম্মেল হক কাজী ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান:
খবর পাওয়ার পরপরই আমরা ঘটনাস্থলে গিয়ে জনতাকে শান্ত করার চেষ্টা করি। তবে উত্তেজিত জনতা পুলিশের ওপর চড়াও হয় এবং সরকারি গাড়িতে ভাঙচুর চালায়। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং যান চলাচল স্বাভাবিক করা হয়েছে। মরদেহ উদ্ধার করে আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হচ্ছে।
দীর্ঘদিন ধরে ঢাকা-রাজশাহী মহাসড়কের এই অংশে ড্রাম ট্রাকের বেপরোয়া চলাচল নিয়ে স্থানীয়দের মাঝে চাপা ক্ষোভ ছিল। আজকের এই প্রাণহানি সেই ক্ষোভের বিস্ফোরণ ঘটিয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, মহাসড়কে অবৈধ ও দ্রুতগামী ট্রাকের দৌরাত্ম্য বন্ধে স্থায়ী নজরদারি না থাকলে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটবে।