মোঃ শরীফ হোসেন, লক্ষ্মীপুর:
লক্ষ্মীপুরের ১৭ নং ভবানীগঞ্জ ইউনিয়নের ৬ নং ওয়ার্ড রামগতি রোড চৌরাস্তা থেকে মিয়ারবেড়ির মাঝামাঝি রাস্তার পশ্চিম পাশে নতুন দেওয়ান বাড়ির রোডে বেড়ির প্রকাশ্যে সরকারি খাল দখল করে অবৈধ সেতু নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে। সদর উপজেলার ১৭ নং ভবানীগঞ্জ ইউনিয়নের রাস্তার পাশে সরকারি খালটি এলাকাবাসীর পানি নিষ্কাশনের প্রধান মাধ্যম সেই খালটি দখল করে ব্যক্তিগত প্রয়োজনে স্থাপনা নির্মাণ করা হয়েছে বলে স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন।
স্থানীয় সূত্র ও ভুক্তভোগীদের ভাষ্য অনুযায়ী, ওহিদ উদ্দিন নামের এক ব্যক্তি কোনো ধরনের সরকারি অনুমোদন, নকশা বা পরিবেশগত ছাড়পত্র ছাড়াই খালের ওপর সেতু নির্মাণ কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। নির্মাণকাজ চলাকালীন সময়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো ধরনের কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়ায় এলাকাজুড়ে প্রশ্ন উঠেছে।
অভিযোগ অস্বীকার করে ওহিদ উদ্দিন দাবি করেন, সেতুটি তাঁর নিজস্ব জায়গার ওপর নির্মাণ করা হয়েছে। তবে স্থানীয় বাসিন্দারা এই দাবিকে ভিত্তিহীন ও বিভ্রান্তি মূলক বলে প্রত্যাখ্যান করেছেন।
এলাকাবাসীর দাবি, রাস্তার পাশের খাল সরকারি খতিয়ানভুক্ত এবং বহু বছর ধরে এটি উন্মুক্ত জলপ্রবাহ হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ব্যক্তি বলেন, এটা সরকারি খাল। কাগজ পত্রেই প্রমাণ আছে। খাল দখল করে সেতু বানানো হয়েছে। আমরা প্রতিবাদ করলেও কেউ শোনেনি।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, অবৈধ সেতু নির্মাণের ফলে খালের স্বাভাবিক পানি চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়ে ঘরবাড়ি ও কৃষিজমি ক্ষতির মুখে পড়তে পারে। পরিবেশ ও জলাধার রক্ষা আইনের সরাসরি লঙ্ঘন হলেও এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
এবিষয়ে জানতে চাইলে লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ক্যাথোয়াইপ্রু মারমা বলেন, “সরকারি খাল দখল বা অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ আইনবিরোধী। অভিযোগ তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) অভি দাস বলেন, খাল বা জলাশয় দখল গুরুতর অপরাধ। তদন্তে প্রমাণ পাওয়া গেলে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদসহ আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।