হাবিবুর রহমান নাজমুল,রাজনগর:
মৌলভীবাজারের রাজনগর উপজেলার টেংরা ইউনিয়ন পরিষদে ভিজিডি (VGD) কর্মসূচির চাল বিতরণকে কেন্দ্র করে নানা অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। ওজনে কম চাল দেওয়া, সুবিধাভোগীদের কাছ থেকে নগদ অর্থ সংগ্রহ করে তা দীর্ঘদিন ব্যাংকে জমা না দেওয়া এবং সরকারি নির্দেশনা লঙ্ঘনের অভিযোগে এলাকায় ব্যাপক ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে।
গত ২ এপ্রিল এ সংক্রান্ত একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হলে বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। পরে ইউনিয়ন পরিষদ কর্তৃপক্ষ ১৭৩ জন সুবিধাভোগীর তালিকা অনুযায়ী প্রায় ১ লাখ ৬ হাজার ৭০০ টাকা টেংরা বাজার শাখা রূপালী ব্যাংকে জমা দেয়। অভিযোগ রয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে এ অর্থ ব্যাংকে জমা না হওয়ায় সুবিধাভোগীরা তাদের প্রাপ্য সুবিধা থেকে বঞ্চিত ছিলেন।
রূপালী ব্যাংকের টেংরা বাজার শাখার ম্যানেজার রাহাত চৌধুরী জানান, সম্প্রতি ইউনিয়ন পরিষদ থেকে টাকা জমা দেওয়া হয়েছে। তবে গত পাঁচ-ছয় মাসে ভিজিডি সংক্রান্ত কোনো অর্থ বা তালিকা ব্যাংকে পাঠানো হয়নি।
উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা জানান, সরকারি নিয়ম অনুযায়ী সুবিধাভোগীদের নিজস্ব ব্যাংক হিসাবে ২২০ টাকা জমা দিয়ে রসিদ দেখানোর পরই চাল বিতরণ করার কথা। এ বিষয়ে প্রাপ্ত অভিযোগগুলো তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
টেংরা ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান রাম দুলালী মুনিয়া দাবি করেন, গত সাত মাস ধরে নিয়ম অনুযায়ী চাল বিতরণ করা হয়েছে এবং একজন দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি টাকা সংগ্রহ করতেন। শুরুতে অনেকের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট না থাকায় অর্থ পরিষদের কাছে রাখা হয়েছিল, যা পরে পর্যায়ক্রমে জমা দেওয়া হয়েছে।
তবে তিনি স্বীকার করেন, ইউনিয়নের এক গ্রাম পুলিশের কাছে প্রায় ৭৫ হাজার টাকা রাখা হয়েছিল এবং তা ফেরত আনার চেষ্টা চলছে।
সুবিধাভোগীরা অভিযোগ করেন, তাদের কাছ থেকে নিয়মিত টাকা নেওয়া হলেও ব্যাংকে জমার বিষয়ে কিছু জানানো হয়নি। পূর্ব ইলাশপুর গ্রামের রোকসানা বেগম বলেন, “আমরা জানতাম না টাকা ব্যাংকে জমা দিতে হয়। নয় মাসেও বুঝিনি আমাদের টাকা কোথায় গেছে, আর চালও অনেক সময় কম পেয়েছি।”
আরেক সুবিধাভোগী রুনা বেগম জানান, অনিয়ম প্রকাশের পর এখন তাদের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খুলতে বলা হচ্ছে।
দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি অজয় পাল প্রথমে অভিযোগ অস্বীকার করলেও পরে বলেন, তিনি কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ী কাজ করেছেন।
এ ঘটনায় সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে—সুবিধাভোগীদের কাছ থেকে সংগৃহীত প্রায় ৭৫ হাজার টাকা কীভাবে একজন গ্রাম পুলিশের কাছে গেল এবং কেন তা সরাসরি ব্যাংকে জমা দেওয়া হয়নি।
রাজনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বিপুল সিকদার জানিয়েছেন, ঘটনাটি তদন্তে একটি কমিটি গঠন করা হবে এবং দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ইউনিয়ন পরিষদের সচিব মিজানুর রহমানের বক্তব্য জানতে একাধিকবার চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।