মেহেদী হাসান সোহেল,টাঙ্গাইল:
টাঙ্গাইল সেচ্ছাসেবক লীগ নেতা মামুনুর রশীদ (মামুন) এর হাতে তার পিতা বীর মুক্তিযোদ্ধা অবঃ সার্জেন্ট মো.হাসেম আলী কে মারধরের অভিযোগ উঠেছে।
তথ্য সূত্রে জানা গেছে বীর মুক্তিযোদ্ধা হাসেম আলী টাঙ্গাইল পৌরসভার ৭নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা।
তার বড় ছেলে মামুনুর রশীদ (মামুন) নিষিদ্ধ সংগঠন আওয়ামী সেচ্ছাসেবক লীগ টাঙ্গাইল জেলা শাখার সদস্য। তার এই ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে বাবা বীর মুক্তিযোদ্ধা হাসেম আলীর কাছ থেকে ইতি পূর্বে জোড় পূর্বক জমি লিখে নেওয়ার চেষ্টা করে। বাবা বীর মুক্তিযোদ্ধা বিষয়টি টের পেয়ে জমি রক্ষা করার জন্য ১৪ শতাংশ জমি তার ছোট ছেলে মেহেদী হাসানকে লিখে দেয়।
এই সংবাদ বড় ছেলে ও তার স্ত্রী জানতে পারলে তখন থেকে (মামুন) বাবা কে ও ছোট ভাইকে মেরে ফেলার চেষ্টা করতে থাকে এমনই অভিযোগ তুলছে বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল হাসেম ও মেহেদী হাসান।
এই বিষয়টি নিয়ে দফায় দফায় এলাকায় সালিক বৈঠক হলেও কোন সমাধান করতে পারেনি এলাকার মাতব্বর গন।
সর্ব শেষ গত ১৪ এপ্রিল সন্ধ্যায় কথা কাটাকাটি শুরু থেকে হাতাহাতি হয়।
এ বিষয়ে বীর মুক্তিযোদ্ধা হাসেম আলী টাঙ্গাইল সদর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
কেন অভিযোগ থানায় করছেন এটাকে কেন্দ্র করে পূর্ণরায় ১৬ এপ্রিল সকাল ৮ ঘটিকার সময় কথা কাটাকাটি’র এক পর্যায় বীর মুক্তিযোদ্ধা হাসেম আলীকে ছেলে মামুন ছেলের বউ লিনা আক্তার মাহবুব আলম সাব্বির মিলি আক্তার হোসনে আক্তার মনি সহ অজ্ঞাতনামা আরো ৭/৮ জন মিলে দেশীয় অস্ত্র সস্ত্র নিয়ে হামলা করে। এতে গুরুতর আহত হয় বাবা বীর মুক্তিযোদ্ধা হাসেম আলী।
গুরুত্বর আহত অবস্থায় টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হয় বীর মুক্তিযোদ্ধা হাসেম আলী।
ঘটনা জানতে হাসপাতালে গেলে বীর মুক্তিযোদ্ধা হাসেম আলী প্রতিবেদককে বলেন পাকিস্তান হানাদারদের কাছ থেকে দেশ স্বাধীন করেছি বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে সুনামের সাথে চাকরি করেছি কোন দিন এই ভাবে কোথাও মার খাইনি। অথচ শেষ বয়সে এসে সন্তানের হাতে মার খেয়ে হাসপাতালে ভর্তি হব এটা ভাবতেও পারিনি।
এই লজ্জা আমি লুকাতে জায়গা পাচ্ছি না। এর চেয়ে মরে যাওয়া অনেক ভালো।
ঘটনার আরো বিস্তারিত জানতে সেচ্ছাসেবক লীগ নেতা মামুনুর রশীদ (মামুন) এর নিকট জানতে চাওয়া হলে তিনি বিষয়টি সম্পূর্ণ মিথ্যা দাবী করে বলেন বাবাই তাকে বাঁশ দিয়ে মাথায় বারি দিয়েছে। আমি বাবাকে মারি নাই। আমাকে হেয়প্রতিপন্ন করার জন্য বাবা মিথ্যা বলেছে।
তিনি আরো বলেন আমার স্ত্রী বাদী হয়ে একটি অভিযোগ করেছে পুলিশ এসে তদন্ত করে গেছে।
দুটি অভিযোগ তদন্ত করে দেখছেন সন্তোষ ফাঁড়ির এ এস আই দয়াল। তার কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন দুই টি অভিযোগ আমি পেয়েছি ঘটনাস্থলে গিয়ে বাবা ছেলের মধ্যে কথা কাটাকাটির এক পর্যায় হাতাহাতি হয়েছে এর সত্যতা পাওয়া গিয়েছে। যদি বাবা বীর মুক্তিযোদ্ধা মামলা করেন তাহলে আমরা আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করব।