মোঃ সাইদুর বাশার ক্রাইম রিপোর্টার :
মেহেরপুর ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতাল-এর জরুরি বিভাগের সামনে ও উভয় পাশে অবৈধ দোকানপাট এবং ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার দখলে সৃষ্টি হয়েছে চরম বিশৃঙ্খল পরিবেশ। হাসপাতালের মতো স্পর্শকাতর স্থানে এমন অপরিচ্ছন্ন ও অনিয়ন্ত্রিত পরিস্থিতিতে রোগী, স্বজন এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে বাড়ছে উদ্বেগ।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, হাসপাতালের জরুরি বিভাগের বিশেষ করে উত্তর পাশজুড়ে ডাব, পোশাক, আখের রসসহ বিভিন্ন ধরনের অস্থায়ী দোকান গড়ে উঠেছে। দোকানিদের ফেলে রাখা ডাবের খোসা ও বিভিন্ন বর্জ্যে চারপাশ অপরিষ্কার হয়ে পড়েছে। এসব ময়লা-আবর্জনার ওপর মাছির উপদ্রব লক্ষ্য করা গেছে, যা হাসপাতালের রোগীদের জন্য মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকির কারণ হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সচেতন মহল।
শুধু তাই নয়, জরুরি বিভাগের সামনে সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা। এতে অ্যাম্বুলেন্স ও জরুরি রোগী পরিবহনে বিঘ্ন সৃষ্টি হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। অনেক রোগী ও স্বজন জানান, হাসপাতালের জরুরি বিভাগের সামনে এমন দখলদারিত্ব ও বিশৃঙ্খল পরিবেশ অত্যন্ত দুঃখজনক এবং জনস্বাস্থ্যের জন্য হুমকিস্বরূপ।
হাসপাতালের বিভিন্ন স্থানে অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ ও আবর্জনার স্তূপও দেখা গেছে। বিশেষ করে জরুরি বিভাগের আশপাশে নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার ঘাটতি স্পষ্টভাবে চোখে পড়ে।
এ বিষয়ে হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়কের মোবাইল নম্বরে (০১৭১৩-৮২৩২৫৪) সোমবার সন্ধ্যা ৬টা ৫ মিনিটে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে নম্বরটি বন্ধ পাওয়া যায়।
পরে এ বিষয়ে ডাঃ এ.এইচ.এম আবু সাঈদ এবং ডাঃ আঞ্জুমান আরা-এর সঙ্গে মুঠোফোনে কথা হলে তারা জানান, বিষয়টি সরাসরি হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক দেখভাল করেন।
পরবর্তীতে হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডাঃ জাহিদ বলেন, “কয়েকদিন আগে নিলামের মাধ্যমে শুধুমাত্র গ্যারেজ ইজারা দেওয়া হয়েছে। এর বাইরে দোকানপাট বসানোর কোনো অনুমতি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ দেয়নি। এমনকি গ্যারেজের অনুমতি থাকলেও জরুরি বিভাগের একেবারে সামনে বা লাগোয়া স্থানে গাড়ি রাখার কোনো বৈধতা নেই।”
স্থানীয় সচেতন মহল ও রোগীদের স্বজনরা অবিলম্বে জরুরি বিভাগের সামনের অবৈধ দোকানপাট ও অটোরিকশা অপসারণ, হাসপাতাল চত্বর পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা এবং স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।