মো:ফেরদৌস আলম জহির খান,ফেনী:
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান ভয়াবহ যুদ্ধের নেতিবাচক প্রভাব পড়তে শুরু করেছে দেশের জ্বালানি খাতে। আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের অস্থিরতা ও সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ার শঙ্কায় দেশের পেট্রোল পাম্পগুলোতে জ্বালানি তেলের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, অনেক পাম্প তেল সরবরাহ বন্ধ করে দিয়েছে, আর যেখানে পাওয়া যাচ্ছে সেখানে দেখা গেছে গ্রহীতাদের মাইলের পর মাইল দীর্ঘ লাইন।
শনিবার ফেনী থেকে চট্টগ্রাম পর্যন্ত বিভিন্ন এলাকা ও মহাসড়কের পাশের পাম্পগুলোতে ঘুরে দেখা যায়, সকাল থেকেই মোটরসাইকেল, প্রাইভেটকার এবং গণপরিবহনের উপচে পড়া ভিড়। দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও অনেকে পর্যাপ্ত তেল পাচ্ছেন না। পাম্প কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, মজুত কমে আসায় তারা গ্রাহকপ্রতি তেলের পরিমাণ সীমিত করে দিয়েছেন।
পাম্পে অপেক্ষমাণ এক ভুক্তভোগী বলেন, “তিন ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে মাত্র ৫০০ টাকার তেল পেয়েছি। পাম্প থেকে বলা হচ্ছে তেল নেই। এভাবে চললে গাড়ি চালানোই অসম্ভব হয়ে পড়বে।”
জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিতিশীল পরিস্থিতির কারণে বিশ্বজুড়ে তেলের সরবরাহ চেইন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। বাংলাদেশ যেহেতু আমদানিনির্ভর, তাই দ্রুত বিকল্প ব্যবস্থা বা মজুত নিশ্চিত না করলে পরিবহন খাতে বড় ধরনের স্থবিরতা নেমে আসতে পারে।
পাম্প মালিকদের দাবি, ডিপো থেকে চাহিদামতো তেল সরবরাহ না পাওয়ায় তারা সাধারণ গ্রাহকদের ফিরিয়ে দিতে বাধ্য হচ্ছেন। অনেক স্থানে তেল না পেয়ে চালক ও পাম্প কর্মীদের মধ্যে বাগবিতণ্ডার ঘটনাও ঘটছে।
সরকারের পক্ষ থেকে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের কথা জানানো হলেও সাধারণ মানুষের শঙ্কা, যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী হলে এই সংকট আরও ঘনীভূত হতে পারে। বর্তমানে সীমিত সরবরাহের কারণে পণ্যবাহী ট্রাক ও গণপরিবহন চলাচল ব্যাহত হওয়ায় নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়ারও আশঙ্কা করা হচ্ছে।