শহিদুল ইসলাম , নিকলী উপজেলা, (কিশোরগঞ্জ):
কিশোরগঞ্জের নিকলীতে নিখোঁজের ২৫ দিন পর এক যুবকের কঙ্কালসার দেহাবশেষ উদ্ধার হয়েছে হাওরের একটি ভুট্টা ক্ষেত থেকে। ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনায় থানায় হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং জড়িত সন্দেহে দুজনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করছে পুলিশ। সবশেষে আদালতে প্রেরণের পর ১৬৪ ধারা জবানবন্দিতে হত্যার দ্বায় স্বীকার করেন বলে আদালত সূত্রে জানা গেছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত বুধবার (২ এপ্রিল) সন্ধ্যায় সিংপুর ইউনিয়নের ডুবির হংডাইল এলাকায় একটি ভুট্টা ক্ষেত থেকে অজ্ঞাত দেহাবশেষ পড়ে থাকার খবর পায় এলাকাবাসী। পরে নিকলী থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে হাড়গোড় উদ্ধার ও সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে এবং ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালে পাঠায়। শিয়াল-কুকুরে টেনে হিঁচড়ে দেহটি ছিন্নভিন্ন করে ফেলায় দেহাবশেষটি প্রায় কঙ্কালে পরিণত হয়ে যায়।
পরবর্তীতে এই দেহাবশেষ নিখোঁজ যুবক আবীর হাসানের (২০) বলে শনাক্ত করা হয় পরিবারের পক্ষ থেকে। তিনি উপজেলার ভাটিভরাটিয়া উত্তরপাড়ার বাসিন্দা সিদ্দিক মিয়ার ছেলে এবং স্থানীয়ভাবে কৃষিশ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন।
পরিবারের অভিযোগ, গত ৮ মার্চ রাত থেকে আবীর নিখোঁজ ছিলেন। এ ঘটনায় তার বাবা ১৩ মার্চ নিকলী থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। এই জিডির তদন্ত চলাকালেই দেহাবশেষ উদ্ধারের ঘটনা ঘটে।
মামলার অভিযোগে বলা হয়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টিকটকের মাধ্যমে প্রায় দুই বছর আগে মাহমুদুর হাসান রিয়ান(২০) নামে এক যুবকের সঙ্গে রাজশাহীর ভবানীগঞ্জ এলাকার কেয়া আক্তারের (১৮) পরিচয় হয়। একপর্যায়ে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে এবং চলতি বছরের ১৯ জানুয়ারি তারা বিয়ে করেন।
অভিযোগ অনুযায়ী, নিহত আবীর হাসান ও মাহমুদুল হাসান রিয়ান ঘনিষ্ঠ বন্ধু ছিলেন এবং পাশাপাশি বাড়িতে বসবাস করতেন। আবীর প্রায়ই রিয়ানের বাড়িতে যাতায়াত করতেন। এ সময় রিয়ানের স্ত্রী কেয়ার সঙ্গে আবীরের ঘনিষ্ঠতা নিয়ে এলাকায় গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ে।
ঘটনার সূত্রপাত হিসেবে জানা যায়, আবীর হাসান গত ৮ মার্চ রাতে রিয়ানের বাড়িতে গিয়ে কেয়ার সঙ্গে একটি ছবি তুলেন এবং তা রিয়ানের কাছে পাঠান। রিয়ান তখন চট্টগ্রামে তার বাবা সাথে দেখা করতে গিয়েছিলেন। পরদিন ৯ মার্চ সকালে রিয়ান চট্টগ্রাম থেকে বাড়িতে ফেরেন। এর পর বিকেল থেকেই আবীরের মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।
পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, টিকটক সূত্রে গড়ে ওঠা সম্পর্ক ও ব্যক্তিগত সম্পর্ক কিংবা বিরোধ থেকেই এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটতে পারে। তবে বিষয়টি এখনো তদন্তাধীন রয়েছে।
নিকলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল ইসলাম জানান, “ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে মাহমুদুল হাসান রিয়ান ও তার স্ত্রী কেয়া আক্তারকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে এটি প্রেমঘটিত বিরোধের জেরে সংঘটিত হত্যাকাণ্ড বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিষয়টি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করা হচ্ছে।” এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার (৩ এপ্রিল) নিকলী থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, তদন্তের অগ্রগতির ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।