শহিদুল ইসলাম নিকলী,কিশোরগঞ্জ:
৭ এপ্রিল ২০২৬
কিশোরগঞ্জের নিকলী উপজেলার জারইতলা ইউনিয়নের পশ্চিম পুড্ডা এলাকায় শত বছরের পুরনো একটি খাল ভরাটের ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ ও ক্ষোভ বিরাজ করছে। পূর্বপুরুষের আমল থেকে কৃষিকাজে ব্যবহৃত গুরুত্বপূর্ণ এই খালটি প্রভাবশালী একটি মহল দখল করে ভরাট করে ফেলেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
এলাকাবাসীর দাবি, খালটি ভরাট করে পানি চলাচলের স্বাভাবিক পথ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। ফলে সামান্য বৃষ্টিতেই দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে, যা স্থানীয় কৃষিকাজের ওপর মারাত্মক প্রভাব ফেলবে। কৃষকদের মতে, খালটি ছিল এ অঞ্চলের কৃষির প্রধান প্রাণ। এটি বন্ধ হয়ে গেলে অন্তত ২০০ থেকে ৩০০ কৃষক পরিবার সরাসরি ক্ষতির মুখে পড়বে এবং তাদের জীবিকা হুমকির মুখে পড়বে।
স্থানীয় বাসিন্দা মোহাম্মদ আবুল বলেন, “এই খালটি আমাদের কৃষির প্রাণ। এটি বন্ধ হয়ে গেলে অপূরণীয় ক্ষতি হবে। আমরা প্রতিবাদ করলে আমাদের হুমকি দেওয়া হচ্ছে। বহিরাগত সন্ত্রাসী এনে জোরপূর্বক খাল ভরাট করা হয়েছে। এমনকি মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর ভয়ও দেখানো হচ্ছে।”
আরেক বাসিন্দা আবুল হোসেন অভিযোগ করে বলেন, “আমি বাধা দেওয়ায় আমাকে দুই লাখ টাকার চাঁদাবাজির মিথ্যা মামলার হুমকি দেওয়া হচ্ছে। আমি এখন চরম আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছি।”
মোহাম্মদ আলী জানান, খালের জায়গা অবৈধভাবে ভরাট করে স্থাপনা নির্মাণ করায় পানি চলাচলের পথ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে। এতে সেচ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ার পাশাপাশি সামান্য বৃষ্টিতেই জলাবদ্ধতা তৈরি হয়ে কৃষকদের ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে।
স্থানীয় আরেক বাসিন্দা মোহাম্মদ নূরুল ইসলাম বলেন, “শতবর্ষী এই খালটি একসময় নৌ-চলাচল ও পানির গুরুত্বপূর্ণ উৎস ছিল। কিন্তু ঈদের পরদিন প্রভাবশালীরা সন্ত্রাসী বাহিনী দিয়ে জোরপূর্বক খালটি ভরাট করে। ভয়ে অনেকেই মুখ খুলতে পারছেন না।”
এ বিষয়ে নিকলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রেহানা মজুমদার মুক্তি জানান, এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পাওয়া গেলে তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তিনি বলেন, “খাল ভরাটের কোনো সুযোগ নেই। বরং সরকার খাল খননের উদ্যোগ নিয়েছে।”
জারইতলা ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শাহ মোহাম্মদ জাকির হোসেন বলেন, “একসময় এই খাল দিয়ে কটিয়াদী পর্যন্ত নৌ-যোগাযোগ ছিল। আমরা প্রশাসনের কাছে দ্রুত খালটি দখলমুক্ত করে আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনার দাবি জানাচ্ছি। প্রয়োজন হলে বিষয়টি কেন্দ্রীয় পর্যায় পর্যন্ত জানানো হবে। কারণ যেখানে সরকার খাল খননের উদ্যোগ নিচ্ছে, সেখানে আমাদের এলাকায় খাল দখল করে ভরাট করা হচ্ছে—এটি কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।”
এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে চরম উদ্বেগ বিরাজ করছে। দ্রুত প্রশাসনিক হস্তক্ষেপের মাধ্যমে খালটি পুনরুদ্ধার না হলে পরিবেশ ও কৃষি ব্যবস্থায় দীর্ঘমেয়াদি বিরূপ প্রভাব পড়বে বলে আশঙ্কা করছেন এলাকাবাসী।