শহিদুল ইসলাম নিকলী,কিশোরগঞ্জ:
৮ এপ্রিল ২০২৬
কিশোরগঞ্জের নিকলী উপজেলার ধনু নদীতে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের অভিযোগে সুমন (২৭) নামে এক ব্যক্তিকে ড্রেজারসহ আটক করেছে প্রশাসন। এ সময় ঘটনাস্থল থেকে ব্যবহৃত ড্রেজার জব্দ করা হয়, যা দীর্ঘদিন ধরে নদীর তলদেশ থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনে ব্যবহৃত হচ্ছিল বলে জানা গেছে।
স্থানীয় প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পরিচালিত এক অভিযানে ভ্রাম্যমাণ আদালত ঘটনাস্থলে পৌঁছে অবৈধ কার্যক্রমের সত্যতা পায়। পরে তাৎক্ষণিকভাবে সুমনকে আটক করে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ৫ লক্ষ টাকা জরিমানা করা হয়। জরিমানা অনাদায়ে তাকে তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করা হয়েছে।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরেই একটি চক্র ধনু নদীর বিভিন্ন পয়েন্টে ড্রেজার বসিয়ে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে আসছিল। এতে নদীর স্বাভাবিক গতিপথ ব্যাহত হচ্ছে এবং ভাঙনের ঝুঁকি বাড়ছে। কৃষিজমি, বসতভিটা এবং আশপাশের অবকাঠামো হুমকির মুখে পড়ছে বলে তারা উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, অবৈধ বালু উত্তোলনের ফলে নদীর গভীরতা অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পায়, যা নদীর তীর ভাঙনকে ত্বরান্বিত করে। এছাড়া নদীর জীববৈচিত্র্যও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। মাছের প্রজনন ব্যাহত হওয়ায় স্থানীয় জেলেদের জীবিকাও সংকটে পড়ছে।
অভিযান পরিচালনাকারী কর্মকর্তারা জানান, নদী রক্ষায় এ ধরনের অবৈধ কার্যক্রমের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে রয়েছে প্রশাসন। ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সচেতন মহলের মতে, শুধু প্রশাসনের অভিযানই যথেষ্ট নয়; স্থানীয় জনগণেরও এ বিষয়ে সচেতন হওয়া জরুরি। অবৈধ বালু উত্তোলনের মতো পরিবেশবিধ্বংসী কর্মকাণ্ড রোধে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।
ধনু নদীকে রক্ষা করতে না পারলে এর ভয়াবহ প্রভাব পুরো এলাকার ওপর পড়বে—এমন আশঙ্কা প্রকাশ করে স্থানীয়রা দ্রুত স্থায়ী সমাধানের দাবি জানিয়েছেন।