শহিদুল ইসলাম, নিকলী,কিশোরগঞ্জ:
১৩ এপ্রিল ২০২৬
রোজ সোমবার
কিশোরগঞ্জ জেলার নিকলী উপজেলা-এর নোয়াপাড়া বাংলা বাজারে সংঘটিত এক ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে মুহূর্তের মধ্যেই পুড়ে ছাই হয়ে গেছে একটি ভাংগাড়ির দোকান। এতে ব্যবসায়ী মোঃ দিন ইসলাম (৪০)-এর জীবনের একমাত্র অবলম্বন সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গেছে। একই ঘটনায় পাশের একটি ক্লাবঘরেও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, যা স্থানীয়দের মাঝে চরম উদ্বেগ ও সহানুভূতির সৃষ্টি করেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, হঠাৎ করে লাগা আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে দোকানের ভেতরে থাকা টায়ার, পলিথিন, পুরনো বই, কাগজের কার্টন, কুড়া এবং বিভিন্ন মেশিনের মালামালে। দাহ্য পদার্থের কারণে আগুনের তীব্রতা এতটাই বেড়ে যায় যে, অল্প সময়ের মধ্যেই দোকানের সবকিছু ছাইয়ে পরিণত হয়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার আগেই পুরো দোকানটি সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে যায়।
অগ্নিকাণ্ডের পর আগুন নিয়ন্ত্রণে এলে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করে। প্রাথমিক তদন্তে তারা ধারণা করছেন, বৈদ্যুতিক লাইনের শর্ট সার্কিট থেকেই এই অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হয়েছে।
এ ঘটনায় শুধু দিন ইসলামের দোকানই নয়, পাশের ঘরে অবস্থিত মোঃ মঞ্জু মিয়ার ক্লাবেও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। আগুনের তাপে ক্লাবঘরের উপরের সিলিং সম্পূর্ণ পুড়ে যায়। এছাড়া চেয়ার, টেবিল, টেলিভিশন, ঘরের কাঠামো এবং টিনের ছাউনিও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ক্লাবের ভেতরের অধিকাংশ আসবাবপত্র ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। মঞ্জু মিয়াও এই ঘটনায় উল্লেখযোগ্য আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন বলে জানা গেছে।
ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ী দিন ইসলাম দীর্ঘদিন ধরে এই ভাংগাড়ির ব্যবসার মাধ্যমে তার পরিবারের ভরণ-পোষণ চালিয়ে আসছিলেন। তার পরিবারে স্ত্রী, ছেলে-মেয়ে এবং বৃদ্ধ মা রয়েছেন। এই দোকানটিই ছিল তাদের একমাত্র আয়ের উৎস। অগ্নিকাণ্ডে সব হারিয়ে এখন তিনি চরম দিশেহারা অবস্থায় দিন কাটাচ্ছেন।
দিন ইসলাম আবেগাপ্লুত কণ্ঠে বলেন,
“এই দোকান দিয়েই আমার সংসার চলতো। সব পুড়ে শেষ হয়ে গেছে। এখন আমি কীভাবে পরিবার চালাবো বুঝতে পারছি না।”
তার এই বক্তব্যে অসহায়ত্ব ও ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তার গভীর ছাপ ফুটে ওঠে।
ঘটনার পর থেকেই স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক সহানুভূতি লক্ষ্য করা গেছে। অনেকেই ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারটির পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন। এলাকাবাসী বলছেন, হঠাৎ ঘটে যাওয়া এই দুর্ঘটনায় দিন ইসলাম ও মঞ্জু মিয়ার পরিবার এক ভয়াবহ সংকটে পড়েছেন, যা কাটিয়ে উঠতে সরকারি ও বেসরকারি সহায়তা অত্যন্ত জরুরি।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বাজার এলাকায় এ ধরনের অগ্নিকাণ্ড প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা জোরদার করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পাশাপাশি ব্যবসায়ীদেরও বৈদ্যুতিক সংযোগ ও দাহ্য পদার্থ ব্যবস্থাপনায় আরও সতর্ক হওয়া উচিত।
এদিকে, ক্ষতিগ্রস্ত দিন ইসলাম ও মঞ্জু মিয়ার ক্ষয়ক্ষতি বিবেচনায় নিয়ে তাদের পুনর্বাসনের জন্য প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন স্থানীয় সচেতন মহল। সকলের প্রত্যাশা—সরকারি সহায়তা ও মানবিক উদ্যোগের মাধ্যমে এই দুই ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার আবারও স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার সুযোগ পাবেন।