মোঃ আলমগীর হোসাইন,কুড়িগ্রাম :
রংপুরে এক প্রসূতির সিজার অপারেশনের পর পেটে গজ কাপড় রেখে সেলাই করার অভিযোগ উঠেছে এক গাইনি চিকিৎসকের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় চিকিৎসকের দায়িত্বশীলতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে ভুক্তভোগী পরিবার। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ।
জানা গেছে, রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার ৩ নম্বর ইউনিয়নের বড় আমবাড়ি গ্রামের বাসিন্দা গৃহবধূ হাবীবা জান্নাত গত ৪১ দিন ধরে তীব্র পেটব্যথায় ভুগছিলেন।
ভুক্তভোগী হাবীবা জান্নাত জানান, গত ৮ মার্চ রংপুর নগরীর বন্ধন জেনারেল হাসপাতালে তার সিজার অপারেশন করেন গাইনি চিকিৎসক রাজিয়া বেগম মুক্তা। অপারেশনের পর থেকেই তিনি অসহনীয় পেটব্যথা ও নানা জটিলতায় ভুগতে থাকেন। বিষয়টি চিকিৎসককে জানালে তিনি আল্ট্রাসনোগ্রাম করার পরামর্শ দেন। কিন্তু রিপোর্ট দেখার পরও চিকিৎসক দায় স্বীকার করেননি।
পরবর্তীতে অন্য এক গাইনি চিকিৎসকের শরণাপন্ন হলে সিটি স্ক্যান করার পরামর্শ দেওয়া হয়। সেই রিপোর্টে রোগীর পেটে কাপড়জাতীয় বস্তু থাকার বিষয়টি নিশ্চিত হয়।
ভুক্তভোগীর স্বামী শাওন মিয়া অভিযোগ করে বলেন, বিষয়টি সংশ্লিষ্ট চিকিৎসককে জানানো হলেও তিনি গুরুত্ব দেননি। বরং পরে চিকিৎসা নিতে গেলে ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগও করেন তিনি। এমন পরিস্থিতিতে তারা বাধ্য হয়ে একটি বেসরকারি হাসপাতালে পুনরায় অপারেশনের মাধ্যমে পেট থেকে গজটি অপসারণ করেন।
তিনি আরও বলেন, “আমরা এই ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই।”
এ বিষয়ে অভিযুক্ত চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তাকে তার চেম্বারে পাওয়া যায়নি। মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করলে তার একজন সহকারী জানান, চিকিৎসক ব্যস্ত আছেন এবং পরে কথা বলবেন।
এদিকে, রংপুরের জেলা সিভিল সার্জন ডা. শাহীন সুলতানা বলেন, অভিযোগ পেলে বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হবে। তিনি জানান, “দায়িত্বে অবহেলা হয়েছে কিনা তা তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হতে হবে। ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি লিখিত অভিযোগ দিলে আমরা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব। এটি অত্যন্ত দুঃখজনক ঘটনা, এমনটি কোনোভাবেই কাম্য নয়।